নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি

মালয়েশিয়ায় সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার, যা সেখানে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিতে পারে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পার্লামেন্টে ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট উপস্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা প্রদান করেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক, কারখানা ও সেবা খাতের শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বিদেশি কর্মচারীদের বর্তমান মাসিক সর্বনিম্ন বেতন ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের একটি বিশাল বড় অংশ কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ শ্রমিকরা আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশটিতে এই নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।

উৎপাদন খাত, নির্মাণশিল্প, প্ল্যান্টেশন এবং রেস্তোরাঁ ও হোটেল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য এই ৩০০ রিঙ্গিত বৃদ্ধি পরিবারের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীরাও সমান বেতন সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করেছেন যে, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও তাঁদের আয়ের মধ্যকার ব্যবধান কমাতেই সরকার সর্বনিম্ন বেতন কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্ববাজারের মন্দা ও অভ্যন্তরীণ বাজারে জীবনযাত্রার চড়া মূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল।

তাছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন অপরিহার্য। ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই বেতন বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে, যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মালয়েশিয়ার সরকারের এই পদক্ষেপে প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মাঝে আনন্দের আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্ধারিত সময়ে নিয়োগকর্তারা যদি সঠিকভাবে এই আইন মেনে চলেন, তবে প্রবাসে তাঁদের কাজের উদ্দীপনা বহুগুণে বেড়ে যাবে।

তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হলেও ২০২৭ সালের জুন থেকে সর্বস্তরে আইনটি কার্যকর করতে কঠোর অবস্থানে থাকবে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। প্রবাসীরা আশা করছেন, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এবং আকামা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলোও আরও সহজ করা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *