অস্ট্রেলিয়ায় নার্সিং ও এজড কেয়ার খাতে সহজ হচ্ছে পিআর

বয়োবৃদ্ধদের সেবা এবং অস্ট্রেলিয়ায় নার্সিং খাতে তীব্র কর্মী সংকট কাটাতে বিশেষ ভিসা চুক্তির আওতায় সরাসরি স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে দেশটির সরকার। ‘এজড কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি লেবার এগ্রিমেন্ট’ (Aged Care Industry Labour Agreement)-এর অধীনে ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি নার্স ও কেয়ারাররা এখন দ্রুততম সময়ে দেশটিতে স্থায়ী হওয়ার এই সুবিধা গ্রহণ করছেন।
করোনা মহামারির পর থেকেই উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসাসেবা ও প্রবীণদের যত্নে দক্ষ জনবলের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রবীণ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে। কর্মী ঘাটতি পূরণে দেশটির সরকার অভিবাসন নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে যারা প্রবীণদের সেবায় ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক, তাদের জন্য নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি স্পনসরশিপের পথ সুগম করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের ভিসার প্রক্রিয়াকরণ সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট খাতে অন্তত দুই বছর পূর্ণকালীন কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই অনুমোদিত নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব বা স্পনসরশিপ পেতে হবে। পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী নার্সিং বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, তারা আইইএলটিএস (IELTS), পিটিই (PTE) বা সমমানের পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় স্কোর তুলে এই ভিসার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই খাতের আবেদনগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ায় আগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। সরাসরি নিয়োগকর্তারা যুক্ত থাকায় কাজের নিশ্চয়তা নিয়েই দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এজড কেয়ার চুক্তির অধীনে মূলত টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ (সাবক্লাস ৪৮২) ভিসার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করা হয়, যা পরবর্তীতে এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম (সাবক্লাস ১৮৬) ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি করে। আবেদনকারীদের প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি বোর্ডের (NMBA) নিবন্ধন বা উপযুক্ত স্কিল অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। এরপর স্পনসরশিপ নিশ্চিত হলে সরকারি পোর্টালে সরাসরি ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যায়। পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগত সনদের সত্যতা যাচাই এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধাপগুলো অত্যন্ত কড়াকড়ির সঙ্গে পালন করা হয়।
চিকিৎসা ও সেবা খাতে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। অতীতে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব এবং জটিল অভিবাসন নিয়মের কারণে অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দিতেন। বর্তমানে পরিবর্তিত ও সহজ নীতির কারণে বহু বাংলাদেশি নার্স সফলভাবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা অর্জন করছেন।
দেশটিতে পৌঁছানোর পর এই কর্মীরা শুধু নিজেদের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনই নিশ্চিত করছেন না, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে অস্ট্রেলিয়ান নিয়োগকর্তাদের কাছে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই খাত থেকে আরও বেশি সংখ্যক কর্মীর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী কয়েক দশক দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের এই উচ্চ চাহিদা অব্যাহত থাকবে। যারা নার্সিং পেশায় যুক্ত আছেন বা ভবিষ্যতে এই খাতে কাজ করতে চান, তারা ইংরেজি দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। সঠিক সময়ে নির্ভুল আবেদনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।











