নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

কম মূলধনে বিদেশে ব্যবসা শুরু করা কি শুধুই স্বপ্ন?

সীমিত পুঁজিতে নিজের ভাগ্য বদলাতে কম খরচে বিদেশে ব্যবসা শুরু করার আগ্রহ প্রবাসী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বড় অংকের বিনিয়োগ বা কোটি টাকার মূলধন না থাকলেও মাত্র ১ থেকে ১০ লাখ টাকা বা সমমানের ক্যাপিটালে অনেক দেশেই বৈধভাবে ছোটখাটো ব্যবসা বা ট্রেডিং উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, আইনি নিয়ম মেনে চলা এবং কম ফি সম্বলিত লাইসেন্স বেছে নেওয়ার মাধ্যমে স্বল্প খরচেই বিশ্বজুড়ে ব্যবসা প্রসারের সুযোগ রয়েছে।

যেসব উদ্যোক্তা স্বল্প বাজেটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসা করতে চান, তাঁদের জন্য পূর্ব ইউরোপ এবং ককাস অঞ্চলের দেশ জর্জিয়া অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক গন্তব্য। দেশটিতে ছোটখাটো একক মালিকানাধীন ব্যবসা নিবন্ধনের খরচ খুবই সামান্য এবং বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণের কম আয়ের ওপর শূন্য শতাংশ করের সুবিধা রয়েছে। প্রায় ১ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেখানে ডিজিটাল বা রিটেইল সার্ভিস ভিত্তিক বিজনেস ট্রেড চালু করা যায়।

একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ফ্রি জোন বর্তমানে সাশ্রয়ী বাজেটে ট্রেড পারমিট ও ফ্রিল্যান্স বা ইনডিভিজুয়াল বিজনেস লাইসেন্স দিচ্ছে। প্রায় ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা বাজেটের মধ্যে এই লাইসেন্সগুলো সংগ্রহ করে কনসালটেন্সি, আইটি বা ই-কমার্স কেন্দ্রিক ব্যবসা শুরু করা পুরোপুরি আইনি ও বৈধ। এটি দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে প্রবেশের অন্যতম সহজ পথ তৈরি করে দিয়েছে।

খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ, ছোট পরিসরে গার্মেন্টস আইটেম সরবরাহ এবং অনলাইনভিত্তিক ট্রেডিং খাতে অল্প টাকায় ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে যেসব দেশে পর্যটন শিল্প উন্নত, সেখানে ১ থেকে ১০ লাখ টাকার বাজেটে ছোট স্ন্যাকস কর্নার, বুটিক সেবা কিংবা ট্যুরিস্ট গাইড এজেন্সির কাজ সহজেই নিবন্ধন করা যায়। এতে বিশাল অবকাঠামোগত বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে যৌথ উদ্যোগ বা স্থানীয় এজেন্টের সাহায্যে ছোট সার্ভিস কেন্দ্রিক কাজগুলো শুরু করতে পারেন। অনেক সময় স্থানীয় অংশীদার সাথে থাকলে বিশাল অংকের মূলধন দেখানোর বাধ্যবাধকতা এড়ানো সম্ভব হয়। ফলে প্রাথমিক কার্যনির্বাহী খরচ ও লাইসেন্সিং ফি বাদে বড় ধরনের কোনো আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে হয় না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ এস্তোনিয়ার ‘ই-রেসিডেন্সি’ সুবিধা ব্যবহার করে যে কেউ অনলাইনে একটি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কোম্পানি নিবন্ধনে খুব কম খরচ হয় এবং ঘরে বসেই বিশ্বজুড়ে পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে সার্ভিসভিত্তিক বাণিজ্য চালানো যায়। তবে মূলধন যখন ১০ লাখ টাকার ভেতরে, তখন ফিজিক্যাল অবকাঠামোর চেয়ে ডিজিটাল সল্যুশনের দিকেই মন দেওয়া যুক্তিসঙ্গত।

বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো স্থানীয় প্রশাসনিক নীতি সম্পূর্ণ মেনে চলা। ভুয়া দালাল বা অবৈধ প্রক্রিয়ার আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি সরকারি পোর্টাল বা বিশ্বস্ত অ্যাটর্নির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন শেষ করতে হবে। এতে করে যেকোনো দেশে উদ্যোক্তা হিসেবে ভিসা এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের সুবিধাও পাওয়া সহজতর হয়।

যে দেশেই কাজ শুরু করুন না কেন, স্থানীয় বাজারের ওপর গভীর বিশ্লেষণ পরিচালনা করা জরুরি। যে দেশে ভাষার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেখানে দ্বোভাষী বা স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগের বাজেট আগে থেকেই হিসাবের মধ্যে রাখা ভালো। এছাড়া পণ্য সরবরাহ বা সেবাদানের ক্ষেত্রে আধুনিক ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাজেট সীমিত থাকলে ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণের মানসিকতা রাখা উচিত। প্রাথমিক মুনাফা পুনরায় ব্যবসায় বিনিয়োগ করে কার্যক্রম বড় করলে স্বল্প মেয়াদের মধ্যে মূলধনের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাজারের নতুন নতুন উন্মোচিত খাতগুলোতে নজর রাখলে ১ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষুদ্র মূলধন দিয়েই টেকসই আন্তর্জাতিক ব্যবসার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব।

কম মূলধনে বিদেশে ব্যবসা শুরু করা কি শুধুই স্বপ্ন?

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন : ফেরত আসা প্রবাসীরা ব্যাংক

কম মূলধনে বিদেশে ব্যবসা শুরু করা কি শুধুই স্বপ্ন?

ইউরোপ ও এশিয়ায় বাড়ছে ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *