কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীদের সামনে ইউরোপে চাকরির সুযোগ

কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশীসহ আন্তর্জাতিক প্রবাসীদের জন্য ইউরোপে চাকরির সুযোগ সম্প্রসারণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। অটোয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রক্রিয়ায় দুই অঞ্চলের মধ্যকার অর্থনৈতিক সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে কানাডায় স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসরত দক্ষ প্রবাসী পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে নিজেদের কাজের পরিধি বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রবাসীরা এই উদ্যোগ থেকে সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।
কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্যমান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা সিইটিএ (CETA) দীর্ঘদিন ধরে পণ্য ও সেবা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মেরুকরণের কারণে দুই অঞ্চলের সম্পর্ক আরও নিবিড় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী ও চুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদানকারীদের সহজে কাজ করার বিধান সংস্কার করা হচ্ছে।
এই নতুন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয় বাজারের মধ্যে দক্ষ জনশক্তির মুক্ত চলাচল জোরদার করা। ফলে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশী কানাডায় থেকে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের জন্য ইউরোপীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক বা পূর্ণকালীন কাজের পথ সুগম হবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এতে করে প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ইউরোপীয় বাজারে বর্তমানে বিশেষ কিছু প্রযুক্তিগত ও কারিগরি খাতে দক্ষ জনবলের চরম ঘাটতি রয়েছে। কানাডায় কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও ডাটা অ্যানালিস্টরা ইউরোপের বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থায় কাজ করার প্রথম সারির দাবিদার। এছাড়া পরিবেশগত প্রযুক্তি, সোলার এনার্জি এবং বায়োমেডিকেল খাতেও বাংলাদেশী পেশাজীবীদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে কাজ করার ক্ষেত্রে সাধারণত স্থানীয় কাজের অনুমতি ও পেশাগত সনদের স্বীকৃতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে নতুন সমঝোতার কারণে কানাডীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ ইউরোপে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে দ্রুত ও সহজ করা হতে পারে। এতে সরাসরি আবেদনের জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।
কানাডায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এখন থেকেই নিজেদের আন্তর্জাতিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় বাজারের চাহিদানুযায়ী বায়োডাটা হালনাগাদ করা এবং বিশেষ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি কাজের প্রয়োজনে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পাশাপাশি জার্মান বা ফরাসি ভাষার মৌলিক জ্ঞান থাকলে ইউরোপে চাকরির সুযোগ নেওয়ার দৌড়ে প্রবাসীরা অনেক এগিয়ে থাকবেন।









