নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা : প্রবাসে সফলতার চাবিকাঠি

একজন প্রবাসীর জন্য কারিগরি শিক্ষা কেবল ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা এবং রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে এটি একটি অবশ্যম্ভাবী হাতিয়ার। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মীরা বিদেশে বহুগুণ বেশি আয় করেন এবং দেশে ফেরার পর নিজ দেশেও উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারেন।

অদক্ষতার আবর্তে বিদেশী শ্রমবাজার
জনশক্তি রপ্তানির একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে স্বল্পদক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। ফলে, শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় আশানুরূপ বেতন তারা পায় না এবং কাজের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকিতে থাকে। দেশে ফেরার পর এই প্রবাসীরাই অদক্ষতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো সময়োপযোগী কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তোলা।

বিদেশী শ্রমবাজারের চাহিদা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, তাদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিকায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ এখন কারিগরি ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ কর্মী বাহিনীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই শ্রমবাজারে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, অটোমোবাইল, ওয়েল্ডিং, প্লাম্বিং, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং এবং আইটির মতো বিষয়গুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা আকাশচুম্বী।

বিদেশে যাওয়ার আগেই দক্ষতা অর্জন
দেশ থেকে পুরোপুরি দক্ষ ও যোগ্য হয়ে বিদেশে যাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
  • জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এর অধীনে দেশজুড়ে অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি পর্যায়েও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
  • বিদেশে যাওয়ার আগে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক মানের সনদ সংগ্রহ করা উচিত।
  • বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থার দক্ষতা যাচাই প্রক্রিয়া বা সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করলে বিদেশে গিয়ে সহজেই ভালো বেতনের চাকরি পাওয়া যায়।

ভাষা শিক্ষা
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। যে দেশেই যান না কেন, কাজ করতে গেলে, সেই দেশের ভাষা বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকলেই কেবল কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ সহজ হয় এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

পুনর্বাসন
দেশে ও বিদেশে অর্জিত কারিগরি দক্ষতা দেশে ফেরার পরও বিরাট সম্পদ হিসেবে কাজ করে। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পাওয়া সহজ হয়। এছাড়াও প্রত্যাগত প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও এসএমই (SME) উদ্যোগের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশে ফিরে এসে প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে সফল উদ্যোক্তা হওয়াও সম্ভব।

কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা:

  • প্রত্যেক বিদেশগামী কর্মীর জন্য অন্তত একটি ট্রেডে কারিগরি দক্ষতা ও সনদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা।
  • সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি বেসরকারি আধুনিক ভাষাকেন্দ্র ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিধি বাড়ানো।
  • বাংলাদেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ বোর্ডের সনদগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *