নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস প্রোগ্রামে বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের অন্যতম জনপ্রিয় কর্মসূচি ইপিএস (EPS) প্রোগ্রামে নতুন সার্কুলার প্রকাশ হয়েছে। ২০২৬ সালে ঘোষিত এই আপডেটে নিয়োগ প্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষা ও যোগ্যতা শর্তে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিদেশে কাজের সুযোগ প্রত্যাশী তরুণদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

ইপিএস (Employment Permit System) হলো দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের একটি বৈধ শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে কোরিয়ায় শ্রমিক পাঠাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে উচ্চ বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং আইনি সুরক্ষার কারণে এই প্রোগ্রামটি বাংলাদেশি যুবকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

নতুন সার্কুলারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে—

  • অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হয়েছে
  • কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষার (EPS-TOPIK) প্রস্তুতিতে নতুন নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে
  • বয়স ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে
  • ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হয়েছে

এই পরিবর্তনগুলোর উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা।

আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে

ইপিএস প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়—

  • ১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন:
    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি পোর্টালে আবেদন করতে হয়।
  • ২. ভাষা পরীক্ষা (EPS-TOPIK):
    কোরিয়ান ভাষার মৌলিক দক্ষতা যাচাই করা হয়।
  • ৩. স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল পরীক্ষা:
    শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
  • ৪. লটারির মাধ্যমে নির্বাচন:
    যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
  • ৫. চাকরি বরাদ্দ ও ভিসা প্রক্রিয়া:
    নির্বাচিতদের কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে উৎপাদন, কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পখাতে বিদেশি শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা ইপিএস প্রোগ্রামের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পরবাসে নিজের ভাষায় বাংলাদেশি ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সহজ পথ

বাংলাদেশি প্রার্থীদের জন্য ইপিএস প্রোগ্রাম এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈধ বিদেশগামী পথগুলোর একটি।

এর মাধ্যমে তুলনামূলক উচ্চ আয় করা সম্ভব, বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থান পাওয়া যায়, দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হয়, দেশে ফিরে দক্ষতা কাজে লাগানো যায়।

তবে এই প্রোগ্রামে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। সীমিত আসনের কারণে হাজারো প্রার্থী আবেদন করলেও খুব অল্প সংখ্যক নির্বাচিত হন।

এছাড়া ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইপিএস প্রোগ্রাম এখনো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মাধ্যম।

তবে তারা সতর্ক করে বলেন, দালাল বা প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইপিএস প্রোগ্রাম শুধু চাকরির সুযোগ নয়, বরং বৈধ অভিবাসনের একটি নিরাপদ পথ। এটি দালালনির্ভর অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন ইপিএস সার্কুলার বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে সঠিক প্রস্তুতি, ভাষা দক্ষতা ও সরকারি নিয়ম মেনে চলাই এই প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস প্রোগ্রামে বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ

রোমানিয়া ও মাল্টা: ইউরোপের নতুন শ্রমবাজারে বাড়ছে

দক্ষিণ কোরিয়ার ইপিএস প্রোগ্রামে বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ

মাত্র ১৮ দিনেই দেশে এল ১৯৭ কোটি

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *