বিদেশ গমনে নিয়োগ খরচ ৩ লাখ টাকা: নতুন নীতিতে কি ভাঙবে রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট?

প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োগ খরচ সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত এবং রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট দমনে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। বছরের পর বছর ধরে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া কর্মীদের ভাগ্যোন্নয়নে এই পদক্ষেপ এক বিরাট বার্তা দিচ্ছে। সরকারি এই উদ্যোগ সফল হলে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রাক্কালে প্রবাসীদের ঋণের চরম বোঝা আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসবে।
বাংলাদেশ থেকে কাজের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেওয়া কর্মীদের বড় অংশকেই ৪ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ ঢালতে হয়। সেখানে কাজের জন্য সরকার নির্ধারিত এই সীমা কার্যকর হলে হাজার হাজার পরিবারের সঞ্চয় ও স্বপ্ন বেঁচে যাবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে নেওয়া এই উদ্যোগ প্রবাসীদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করবে।
অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে বহু কর্মী বিদেশে গিয়ে প্রথম দুই-তিন বছর কেবল আগের ঋণ পরিশোধ করতেই হিমশিম খান। যখন বিদেশ গমনের প্রাথমিক খরচ সীমিত থাকবে, তখন প্রথম মাস থেকেই অর্জিত উপার্জনের পুরোটাই দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠাতে পারবেন তারা। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে বেশ দ্রুত।
সরকার সর্বোচ্চ খরচের সীমা ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে অবৈধ দালাল ও ট্রাভেল এজেন্সির ফাঁদ এড়িয়ে চলা এক বড় চ্যালেঞ্জ। রিক্রুটিং এজেন্সির নাম ভাঙিয়ে অনেক অসৎ চক্র এখনও কৌশলে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা করে। অবৈধ ও অননুমোদিত উপায়ে অর্থ লেনদেন করলে ভুক্তভোগীরা আইনি সুরক্ষার বাইরে থেকে যান।
ব্যাংকিং বা বৈধ রসিদ ছাড়া কোনো লেনদেন করা হলে পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হলেও অভিযোগ প্রমাণের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বিএমইটি নিবন্ধিত বৈধ চ্যানেল ছাড়া বিদেশে গেলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহায়তা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুজনিত সরকারি অনুদান পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই নীতির শতভাগ সুফল পাওয়া কঠিন।
বিদেশগামী শ্রমিকদের গলার কাঁটা হয়ে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া না গেলে কেবল কাগজে-কলমে এই সীমা নির্ধারণ করে সুফল মিলবে না। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে এবং স্বচ্ছ বায়োডাটা ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব।
একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যেন সরকারি রেট চার্ট কঠোরভাবে মেনে চলে, সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি জোরদার করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে একদফা কমে আসবে অনিয়মিত অভিবাসন এবং সুসংহত হবে নিরাপদ প্রবাস যাত্রার পথ।`











