নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

যুক্তরাজ্যে ২০২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের রদবদলের কারণে যুক্তরাজ্যে পিএসডব্লিউ ২০২৭ সাল থেকে দুই বছর থেকে কমে ১৮ মাস হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের এই আকস্মিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা ২০২৬ সালের বিভিন্ন সেশনে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা অলরেডি বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করেছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ না করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে আসবে। তাই নতুন নিয়মের বেড়াজালে পড়ার আগেই ২০২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিতে হবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পিএসডব্লিউ ২০২৭ নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীদের কাজের মেয়াদ ৬ মাস কমিয়ে আনা। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের প্রথম দিন। ফলে ২০২৬ সেশনের যেসকল শিক্ষার্থী দেরিতে ভিসা পাবেন কিংবা যাদের কোর্স ২০২৬ সালের শেষের দিকে শেষ হবে, তারা তীব্র ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই তাদের আবেদনটি ২০২৭ সালের কোটায় পড়ে যাবে, যার ফলে তারা সরাসরি ৬ মাসের ওয়ার্ক পারমিট হারাবেন।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে যারা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জানুয়ারি বা মে সেশন ধরা সবচেয়ে নিরাপদ হবে। সেপ্টেম্বর সেশনের কোর্সগুলো সাধারণত পরবর্তী বছরের একই সময়ে শেষ হয়, যা শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের ডেডলাইনের একেবারে কাছাকাছি নিয়ে যাবে। কোনো কারণে যদি ইউনিভার্সিটির রেজাল্ট প্রকাশে বিলম্ব হয় কিংবা অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট পেতে দেরি হয়, তবে ২ বছরের পিএসডব্লিউ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। অতএব, পরামর্শ থাকবে যত দ্রুত সম্ভব অফার লেটার নিশ্চিত করে ক্যাস (CAS) লেটারের জন্য আবেদন করা।

৬ মাস সময় কমে যাওয়ার অর্থ হলো ইউকে-র স্থানীয় কর্পোরেট বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করার সময় কমে যাওয়া। আগে যেখানে শিক্ষার্থীরা ২ বছর সময় পেতেন একটি স্থায়ী স্পন্সরশিপের ব্যবস্থা করার জন্য, এখন সেখানে মাত্র দেড় বছর বা ১৮ মাস সময় মিলবে। এই কম সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে রিটেইল বা সাধারণ কাজের বাইরে গিয়ে প্রফেশনাল জবের জন্য রাজি করানো বেশ কঠিন হবে। তাই শিক্ষার্থীরা যখনই যুক্তরাজ্যে পা রাখবেন, প্রথম দিন থেকেই তাদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সিভি বিল্ডিং এবং প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিংয়ে মন দিতে হবে।

পিএসডব্লিউ বা গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসা হলো মূলত একটি অস্থায়ী সুযোগ, যা স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি করে না। এই মেয়াদের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিশ্চিত করতে হয়, যারা স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা স্পন্সর করতে সক্ষম। ব্রিটিশ সরকার যেভাবে ক্রমাগত মিনিমাম স্যালারি থ্রেশহোল্ড বা ন্যূনতম বেতনের সীমা বাড়াচ্ছে, তাতে ১৮ মাসের মধ্যে সেই লক্ষ্য ছোঁয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই ২০২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, হেলথকেয়ার বা অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কোর্সগুলো বেছে নেওয়ার ব্যাপারে দূরদর্শিতা দেখাতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *