নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রিয় বাংলাদেশ #শ্রমবাজার

চালু হলো প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সরকারি আইনি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়

বিদেশের মাটিতে চরম অনিশ্চয়তা কিংবা নির্যাতনের মুখোমুখি হলে প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সরকারি আইনি সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকেরা শারীরিক, মানসিক বা আইনি জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ দূতাবাসের শেল্টার হোম ও লিগ্যাল এইড ফান্ডের মাধ্যমে এই জরুরি সেবা পাবেন। কর্মস্থলে নানা প্রতিকূলতার শিকার হওয়া প্রবাসীদের সুরক্ষা দিতে এবং যেকোনো আইনি লড়াইয়ে বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সুবিধা দিতেই এই সেবা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পরবাসে কাজের খোঁজে গিয়ে অনেক নারী শ্রমিককেই নানা অসমাপ্ত চুক্তি, বেতন বঞ্চনা এবং শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে গৃহকর্মী কিংবা পোশাক খাতে কর্মরত নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় কোনো স্বজন বা পরিচিত মাধ্যম ছাড়া একেবারেই নিঃসঙ্গ পড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে এমবাসি শেল্টার ও লিগ্যাল এইড ফান্ড প্রবাসে তাদের অন্যতম প্রধান সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।

দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপদ আশ্রয়ে কেবল খাবারের বাবস্থাই থাকে না, বরং নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং মানসিক কাউন্সেলিংও প্রদান করা হয়। কোনো নারী শ্রমিক যদি নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কিংবা আইনি ঝামেলায় নিজের বিচার পেতে চান, তবে এই ব্যবস্থার অধীনে কোনো খরচ ছাড়াই মামলা পরিচালনা করার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা সম্ভব হয়।

আইনি ও আশ্রয় সুবিধার মতো শক্তিশালী ব্যবস্থা চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেটির কার্যকারিতা বহুক্ষেত্রেই ব্যাহত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের নানা বাস্তবতায়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো তথ্য ও যোগাযোগের অভাব। বিপদে পড়ার পর বহু নারী শ্রমিকই জানেন না কীভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়।

একই সঙ্গে স্থানীয় ভাষা না জানা এবং হটলাইন নম্বর সংরক্ষণে না রাখার দরুন জরুরি মুহূর্তে অভিযোগ জানানো সম্ভব হয় না। এতে করে প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সরকারি আইনি সহায়তা দ্রুততম সময়ে পৌঁছাতে বিঘ্ন ঘটে এবং ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ সময় কষ্ট ভোগ করতে হয়।

বিদেশের মাটিতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সুরক্ষা সেবাগুলো পেতে নারী শ্রমিকদের বেশ কিছু পদ্ধতি আগে থেকেই অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রবাসে যাত্রার পূর্বেই সরকারি ও নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে দূতাবাসগুলোর হালনাগাদ ফোন নম্বর সংগ্রহে রাখা অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ।

এছাড়া কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সরাসরি দূতাবাসে সংবাদ পৌঁছানো কিংবা প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের মাধ্যমে হেল্পলাইনে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় ভাষা সামান্য হলেও আয়ত্তে থাকলে আইনি লড়াই পরিচালনা এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া অনেক সহজতর ও দ্রুতগতির হয়।

বাংলাদেশি রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ আসে এসব খেটে খাওয়া নারীদের উপার্জিত অর্থ থেকে। ফলে বিদেশে গিয়ে তারা যাতে কোনো ধরনের অনিরাপত্তা বা আইনি জটিলতায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বড় দায়িত্ব। এমবাসি শেল্টারগুলোর মান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি দীর্ঘদিনের।

পাশাপাশি বিদেশে পৌঁছানোর পরপরই প্রত্যেক নারী শ্রমিকের কাছে দূতাবাসের হেল্পলাইন নম্বর এবং প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সরকারি আইনি সহায়তা বিষয়ক গাইডলাইন বাধ্যতামূলকভাবে পৌঁছে দেওয়া উচিত। প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা গেলে বিদেশে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা পাবে এবং অসাধু নিয়োগকারীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

চালু হলো প্রবাসী নারী শ্রমিকদের সরকারি আইনি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়ল

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *