নভেম্বর ৯, ২০২৬
#জাতীয় #শীর্ষ-১

প্রবাসীদের অভিযোগ  দ্রুত সমাধানে মন্ত্রণালয়ে ‘অভিযোগ সেল’ গঠন

প্রবাসীদের অভিযোগ  দ্রুত সমাধানে মন্ত্রণালয়ে 'অভিযোগ সেল' গঠন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, দুর্ভোগ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি শোনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি এ–সংক্রান্ত একটি জরুরি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেন প্রবাসীরা। অথচ বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিদেশে কর্মস্থল কিংবা দেশের মাটিতে নিজেদের জমিজমা—সবখানেই তাদের পদে পদে হেনস্তা ও প্রতারণার শিকার হতে হয়। বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে থাকে তাদের যৌক্তিক অভিযোগগুলো। এমন এক প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী পরিবারগুলো এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা স্বাগত জানাচ্ছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ সেলটি সরাসরি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বা তাদের দেশে থাকা স্বজনেরা যেকোনো ধরনের হয়রানি, আইনি জটিলতা, কিংবা প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি এই সেলের কাছে লিখিত বা ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।

সেলের কার্যপরিধি ও বিশেষত্ব

নতুন গঠিত এই ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে যেন দ্রুত সেবা দিতে পারে, সেভাবেই এর কাঠামো সাজানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, সেলটির মূল কাজ হবে অভিযোগ পাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেটির সত্যতা যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা দূতাবাসের সহায়তায় তা দ্রুত সমাধান করা।

সিনিয়র সাংবাদিকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতীতেও প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন হেল্পলাইন বা উইং গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু যথাযথ সমন্বয় এবং সদিচ্ছার অভাবে সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবারের সেলটি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে তদারকি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা একে আগের উদ্যোগগুলোর চেয়ে আলাদা ও শক্তিশালী করে তুলেছে।

নতুন এই উদ্যোগের প্রধান প্রধান দিক:

  • দ্রুততম নিষ্পত্তি: প্রবাসীদের যেকোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রাপ্তির পর তা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমলে নেওয়া হবে।

  • সরাসরি মনিটরিং: সেলটির কার্যক্রম সরাসরি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে থাকবে।

  • দূতাবাসগুলোর সাথে সমন্বয়: বিদেশের মাটিতে প্রবাসীরা বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের ‘লেবার উইং’-এর সাথে এই সেল সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে সমস্যার সমাধান করবে।

  • অবিলম্বে কার্যকর: কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ট্রায়াল বা সময়ক্ষেপণ না করে, অফিস আদেশ জারির দিন থেকেই সেলটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

প্রত্যাশা ও আগামীর পথচলা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যারা সচল রাখছেন, তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে কাগজের কলমে থাকা এই আদেশ যেন মাঠপর্যায়ে বা প্রবাসীদের বাস্তব জীবনে শতভাগ প্রতিফলিত হয়—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেলটিকে সফল করতে হলে এর প্রচার বাড়াতে হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রবাসী এবং তাদের পরিবারও এই সেবা সম্পর্কে জানতে পারে। জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এই সেলটি প্রবাসীদের জন্য একটি সত্যিকারের ‘আস্থার ঠিকানা’ হয়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ  দ্রুত সমাধানে মন্ত্রণালয়ে ‘অভিযোগ সেল’ গঠন

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর নয়? ই-পাসপোর্ট

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *