ঢাকায় সিঙ্গাপুরের এসইসি পরীক্ষা: নির্মাণ খাতে মিলবে বাড়তি বেতন

সিঙ্গাপুরের নির্মাণ খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে ঢাকায় অনুমোদিত ট্রেড টেস্টিং সেন্টারগুলোতে সিঙ্গাপুরে এসইসি পরীক্ষা বা ‘স্কিলস ইভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেট’ (SEC/SEC-K) নেওয়ার আয়োজন বাড়ানো হয়েছে। সিঙ্গাপুরের বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অথরিটির (BCA) সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
দক্ষ শ্রমিকের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় ঢাকায় বিসিএ অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীর ভিড় এখন চোখে পড়ার মতো। বিদেশি এই নির্মাণ বাজারে স্টিল ফিক্সিং, প্লাস্টারিং, থাই অ্যালুমিনিয়াম ফিটিং এবং শিল্প পাইপলাইনের মতো কারিগরি কাজগুলোর কদর সবচেয়ে বেশি। সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় কারিগরি সনদধারী কর্মীরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেতন পাচ্ছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মীরা বিদেশে যাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অভিবাসন ব্যয় তুলে আনতে সক্ষম হচ্ছেন।
সিঙ্গাপুরে কেবল কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করে ভালো আয়ের সুযোগ দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে। সে দেশের নির্মাণ সংস্থাগুলো এখন এমন কর্মী খুঁজছে, যাদের নিজস্ব কাজের ওপর আনুষ্ঠানিক কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সনদ রয়েছে। এসইসি বা এসইসি-কে সনদধারী প্রবাসীরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে সরাসরি উচ্চতর স্কেলের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা যোগ্যতাভেদে এস-পাস সুবিধা পাওয়ায় তাদের কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব ও আয় দুই-ই বাড়ছে।
পরীক্ষা কাঠামোর জটিলতা কমাতে এবং যাতায়াত খরচ বাঁচাতে ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত তদারকি করছেন সিঙ্গাপুরের মূল্যায়নকারীরা। সরাসরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক দক্ষতা যাচাই করা হয়। সফলভাবে উত্তীর্ণদের তাৎক্ষণিকভাবে ইলেকট্রনিক তথ্যভান্ডারে নথিভুক্ত করা হচ্ছে, যা সিঙ্গাপুরের নিয়োগকর্তারা সরাসরি দেখতে পারেন।
প্রবাসী আয় বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিকল্প নেই বলে দীর্ঘদিন ধরে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে গিয়ে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত বেতন না পেয়ে বিপাকে পড়েন অনেকেই। ঢাকায় বসেই আন্তর্জাতিক মানের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য যেমন কমছে, তেমনি অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত হচ্ছে শতভাগ স্বচ্ছতা।











