নভেম্বর ৯, ২০২৬
#নতুন প্রবাসী গাইড

প্রবাসীদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ আবেদনের সরকারি গাইডলাইন ও নিয়মাবলি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ অর্জনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আধুনিক করা হয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সুরক্ষা, পৈতৃক সম্পত্তি স্বত্ব এবং ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এই সুনির্দিষ্ট আবেদন গাইডলাইন বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছে।

বিদেশে দীর্ঘ সময় বসবাসের পর সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও নিজের জন্মভূমির আইনি অধিকার ও পরিচয় টিকিয়ে রাখতে চান বেশিরভাগ প্রবাসী। প্রচলিত ইমিগ্রেশন বিধিতে বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সাধারণ পাসপোর্টের ব্যবহারিক সীমানায় কিছু প্রশাসনিক কড়াকড়ি তৈরি হতে পারে। তবে সরকারি সনদপত্রের মাধ্যমে আইনি অনুমোদন লাভ করলে একজন প্রবাসী একই সাথে দুটি দেশের বৈধ নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করেন।

বাংলাদেশে থাকা বাড়িঘর ও জমিজমা ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সরাসরি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ সহজ করতে এই সনদের আইনি ভূমিকা অপরিসীম। এ ছাড়া অনেক প্রবাসী সন্তান বিদেশি পাসপোর্টে বাংলাদেশে আসার সময় ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ (NVR) সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সনদপত্রকে অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই দেশে যাতায়াত ও নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়াটি প্রবাসীদের সুবিধার্থে সুরক্ষাসেবা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও মাইগভ (myGov) প্ল্যাটফর্মের সাথে সমন্বিত করা হয়েছে। অনলাইনে ফরম পূরণের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, প্রবাসের বর্তমান ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়। আর যারা সরাসরি বিদেশে অবস্থান করছেন, তারা নিজ নিজ দেশে থাকা বাংলাদেশ কনস্যুলেট বা দূতাবাসের মাধ্যমে কাগজপত্রের হার্ডকপি দাখিল করার সুযোগ পান।

অনলাইন আবেদন দাখিলের শেষ ধাপে ই-পেমেন্ট বা সরকারি কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করতে হয়। জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং নম্বর প্রদান করা হয়, যা দিয়ে ঘরে বসেই ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের হালনাগাদ অগ্রগতি তদারকি করা যায়। আবেদন ফরমের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি ডিক্লারেশন যুক্ত করতে হয়।

আবেদন দাখিলের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা ও সরকারের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার (Special Branch) মাধ্যমে আবেদনকারীর সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করা হয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মিশন বা কার্যালয় থেকে সনদপত্র ইস্যু করা হয়। আবেদনপত্রে দেওয়া যেকোনো ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র প্রক্রিয়াটিতে অযথা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে।

বিদেশে জন্মগ্রহণকারী নতুন প্রজন্মের সন্তানদের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের মা-বাবার বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রামাণিক দলিল জমা দেওয়া আবশ্যক। সাধারণত সমস্ত কাগজপত্র সঠিক থাকলে নির্ধারিত কার্যদিবসের মধ্যেই সেবা প্রদান সম্পন্ন করা হয়। আইনি নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে মধ্যস্বত্বভোগীদের শরণাপন্ন না হয়ে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সরাসরি অফিশিয়াল মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করাই প্রবাসীদের জন্য শ্রেয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *