নভেম্বর ৯, ২০২৬
#রেমিট্যান্স #শীর্ষ-১

প্রবাসীদের আয় কি বাংলাদেশে করমুক্ত?

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের আয় বাংলাদেশে করযোগ্য কি না এ প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে অনেকের মধ্যে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কর নীতিমালা নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রবাসীদের আয়কর জমা দেওয়ার নিয়ম, ছাড় এবং করমুক্ত আয়ের সীমা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির কর নির্ধারণ হয় তার “রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস”-এর ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ তিনি বছরে কতদিন দেশে থাকেন এবং তার আয়ের উৎস কোথায়—এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণভাবে, যারা দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকেন এবং সেখানেই আয়ের উৎস তৈরি করেন, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশে অর্জিত আয়ের ওপর বাংলাদেশে কর প্রযোজ্য হয় না—যদি না সেই আয় দেশে আনা হয় বা করযোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।

অনেক প্রবাসীর ধারণা, বিদেশে আয় মানেই পুরোপুরি করমুক্ত। বিষয়টি আংশিকভাবে সঠিক হলেও শর্তসাপেক্ষ।

আরও পড়ুনঃ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিশেষ স্কিমে বাড়ছে প্রবাসীদের আগ্রহ

বাংলাদেশের আয়কর আইন অনুযায়ী বিদেশে অর্জিত আয় সাধারণত করমুক্ত, যদি তা বিদেশেই উপার্জিত ও ব্যবহৃত হয় তবে বাংলাদেশে আনা অর্থ (রেমিট্যান্স) বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে এলে সাধারণত করমুক্ত সুবিধা পায়। এছাড়া অনিয়মিত বা অঘোষিত সম্পদ দেশে থাকলে করের আওতায় আসতে পারে

আয়কর জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় কখন

প্রবাসীদের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক নয় সবসময়। তবে কিছু ক্ষেত্রে জমা দিতে হয়—

  • বাংলাদেশে স্থায়ী সম্পদ (জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা) থাকলে
  • দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের লেনদেন থাকলে
  • বিদেশে আয় থাকলেও দেশে কর রেসিডেন্ট হলে
  • ভিসা নবায়ন বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজে প্রয়োজন হলে

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ধাপ

প্রবাসীরা অনলাইন বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন।

ধাপগুলো সাধারণত—

১. টিআইএন (TIN) নিবন্ধন:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) মাধ্যমে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর নিতে হয়।

২. আয় ও সম্পদের হিসাব প্রস্তুত:
বিদেশি আয়, ব্যাংক ব্যালেন্স এবং দেশে থাকা সম্পদের তথ্য প্রস্তুত করতে হয়।

৩. রিটার্ন ফর্ম পূরণ:
অনলাইনে বা হাতে ফর্ম পূরণ করা যায়।

৪. জমা ও যাচাই:
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশ সরকার বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ উৎসাহিত করতে কর সুবিধা দিয়ে থাকে।

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ সাধারণত করমুক্ত হিসেবে গণ্য হয় এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনা সুবিধা পায়।  এছাড়া ও আয় বিনিয়োগে ব্যবহার করা সহজ হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *