নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মানবিক সংকট #রেমিট্যান্স #সফলতা

প্রবাসে মেধা ও যুক্তির লড়াইয়ে দাপট দেখাচ্ছেন বাংলাদেশি আইনজীবীরা

বিদেশের মাটিতে কেবল হাড়ভাঙা খাটুনি আর রেমিট্যান্স নয়, মেধা ও যুক্তির লড়াইয়েও এখন দাপট দেখাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার আদালত কক্ষগুলোতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনজীবীদের পেশাদারিত্ব এবং সাফল্য এখন প্রবাসীদের গর্বের অন্যতম কারণ। তারা কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ছেন না, বরং বিদেশের জটিল আইনি বেড়াজালে আটকে পড়া নিজ কমিউনিটির মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছেন।

বিদেশের বৈরী পরিবেশে একজন অভিবাসীর জন্য আইনি লড়াই লড়া মানে এক বিশাল পাহাড় ডিঙানো। সেখানে ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই শূন্যস্থান পূরণ করছেন বাংলাদেশি আইনজীবীরা। লন্ডনের ওল্ড বেইলি থেকে নিউ ইয়র্কের সুপ্রিম কোর্ট—সবখানেই এখন সিনিয়র পার্টনার কিংবা সলিসিটর হিসেবে বাংলাদেশিদের নাম উজ্জ্বল।

গত এক দশকে লন্ডনে ‘ব্যারিস্টার’ হিসেবে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি আমেরিকার মতো কঠিন লাইসেন্সিং পরীক্ষার দেশেও ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন তরুণ বাংলাদেশিরা। তাদের এই উত্থান কেবল একটি পেশার সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী বিজ্ঞাপন।

আরও পড়ুনঃ পরবাসে নিজের ভাষায় বাংলাদেশি ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সহজ পথ

পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি এই আইনজীবীরা ‘কমিউনিটি লয়ার’ হিসেবে যে ভূমিকা রাখছেন, তা অমূল্য। অনেক প্রবাসী শ্রমিক বা শিক্ষার্থী ইমিগ্রেশন জটিলতা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য কিংবা পারিবারিক সমস্যায় পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। ভিনদেশি আইনজীবীদের কাছে নিজের সমস্যা বুঝিয়ে বলা বা তাদের মোটা অংকের ফি দেওয়া অনেকের সামর্থ্যের বাইরে থাকে।

ঠিক এই জায়গাটিতেই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন বাংলাদেশি আইনজীবীরা। তারা কেবল আইনি পরামর্শই দেন না, বরং ভাষাগত সহজবোধ্যতা ও মানসিক সাহস জোগানোর মাধ্যমে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। অনেক প্রবীণ আইনজীবী এখন বিদেশের মাটিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা বা ‘প্রো-বোনো’ সেবা দিচ্ছেন, যা সেখানে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটিকে এক সুতোয় গেঁথে রাখছে।

তবে এই সাফল্যের পথটি সর্বদা কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বিদেশের মাটিতে বর্ণবাদ এবং সিস্টেমের ভেতরকার প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ভাঙতে তাদের প্রতি পদে লড়াই করতে হয়। তবুও হার না মানা মানসিকতা আর অদম্য জেদের কারণে তারা আজ জুরি বোর্ড কিংবা বিচারপতিদেরও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। আমাদের এই আইনজীবীরা এখন বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্যানেলে উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ পাচ্ছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *