নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অর্থ-বাণিজ্য #রেমিট্যান্স

বিদেশের মাটিতে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ কি সঠিক পথে যাচ্ছে?

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে অর্জিত প্রতিটি পয়সা প্রবাসীদের কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু এই অর্থ দেশে পাঠানোর সময় অনেক প্রবাসীই দ্বিধায় ভোগেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল না কি একটু বেশি লাভের আসায় হুন্ডি? সম্প্রতি ডলারের বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে হুন্ডি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠলেও, নিরাপত্তার বিচারে ব্যাংকিং চ্যানেলের কোনো বিকল্প নেই। আইনি সুরক্ষা, নিশ্চিত প্রাপ্তি এবং সরকারের দেওয়া নগদ প্রণোদনার কারণে বৈধ পথই এখন প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।

দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের একটি অংশ হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের দিকে ঝুঁকে থাকেন মূলত দুটি কারণে: বিনিময় হার কিছুটা বেশি পাওয়া এবং দোরগোড়ায় টাকা পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটি অত্যন্ত ভয়াবহ। হুন্ডি কোনো স্বীকৃত আর্থিক ব্যবস্থা নয়; এটি মূলত বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি অন্ধকার জগত। এখানে টাকা খোয়া গেলে আইনি কোনো প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো প্রতিটি পয়সার হিসাব থাকে রাষ্ট্রীয় নথিতে, যা আপনার অর্থের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

একজন জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারের মতে, “হুন্ডিতে টাকা পাঠানো মানে হলো নিজের অজান্তেই দেশবিরোধী কোনো চক্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে সহায়তা করা। কারণ হুন্ডির টাকা বিদেশের মাটিতেই থেকে যায়, যা চোরাচালান বা অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে আপনার পাঠানো ডলার দেশে আসে না, কেবল মুদ্রার বিনিময় ঘটে।” এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর, যা প্রকারান্তরে দেশের অর্থনীতিকেই পঙ্গু করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বর!

বিপরীতে, বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠালে সরকার বর্তমানে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। অর্থাৎ, আপনি ১০০ টাকা পাঠালে আপনার পরিবার ১০২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছে। অনেক ব্যাংক এই প্রণোদনার ওপর বাড়তি আরও শতাংশ যোগ করে দিচ্ছে। ফলে দিনশেষে হুন্ডি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের দরের পার্থক্য খুব সামান্যই থাকে। এছাড়া, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে প্রবাসীরা সিআইপি (CIP) মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ পান, যা তাদের জন্য বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা, দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার এবং সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা। ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা অর্থের উৎস নিয়ে কখনো আইনি জটিলতায় পড়তে হয় না।। জমি কেনা, গৃহনির্মাণ ঋণ পাওয়া বা সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থের উৎস দেখাতে গেলে বৈধ রেমিট্যান্সের কোনো বিকল্প নেই। পক্ষান্তরে, হুন্ডির মাধ্যমে আসা অর্থ কালো টাকা হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আপনার পরিবারের জন্য আইনি বিড়ম্বনা ডেকে আনতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *