নভেম্বর ৯, ২০২৬
#স্টুডেন্ট ভিসা

ইউকে গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসা নীতিতে বড় বদল: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের করণীয়

যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের সুযোগ। তবে সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালায় ইউকে গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসা ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বৈশ্বিক ছাত্রছাত্রীদের কাজের মেয়াদ ও পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা আগামীতে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার কথা ভাবছেন বা বর্তমানে সেখানে অধ্যয়নরত আছেন, তাদের জন্য এই নতুন আইনি কাঠামোর প্রতিটি খুঁটিনাটি বোঝা এবং সেই অনুযায়ী সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

যুক্তরাজ্য সরকার তাদের নেট মাইগ্রেশন বা সার্বিক অভিবাসন সংখ্যা কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের ধারাবাহিকতায় এই পরিবর্তনগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে ২ বছরের ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে ২০২৭ সালের শুরু থেকে স্নাতক (Undergraduate) ও স্নাতকোত্তর (Postgraduate Taught) পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ইউকে গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসা এর অধীনে থাকার মেয়াদ হবে মাত্র ১৮ মাস। এই ৬ মাস সময় কমে যাওয়ার কারণে চাকরি খোঁজার উইন্ডো বা সময়সীমা অনেক সংকুচিত হয়ে আসবে।

যেহেতু কাজের মেয়াদ কমছে, তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকে আরও আগেভাগে চাকরির বাজারে নামা ছাড়া বিকল্প নেই। পড়াশোনা শেষ করে ফলের জন্য অপেক্ষা না করে, একাডেমিক সেশনের শুরু থেকেই বিভিন্ন কর্পোরেট গ্র্যাজুয়েট স্কিম এবং স্পন্সরড জবের জন্য আবেদন শুরু করতে হবে। যুক্তরাজ্যে সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরবর্তী বছরের জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে সিভি (CV) এবং কভার লেটার স্থানীয় মানদণ্ডে তৈরি করা এবং নেটওয়ার্কিং জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

গ্র্যাজুয়েট রুট সরাসরি স্থায়ী বসবাসের (ILR) সুযোগ দেয় না, তবে এটি একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড বা অন্তর্বর্তীকালীন সময় হিসেবে কাজ করে। এই ১৮ বা ২৪ মাসের মধ্যে আপনাকে এমন একটি চাকরি নিশ্চিত করতে হবে যা পরবর্তীতে আপনাকে ‘স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা’ (Skilled Worker Visa) স্পন্সরশিপ দিতে পারবে। নতুন নিয়মে স্পন্সরশিপ পাওয়ার জন্য সরকার নির্দিষ্ট কিছু পেশার তালিকা ছোট করে এনেছে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার ক্ষেত্রে বি২ (B2 Level) স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করেছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে নিজের পেশাগত যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি আইনি শর্তগুলো পূরণে প্রথম দিন থেকেই সচেষ্ট হতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *