নভেম্বর ৯, ২০২৬
#স্টুডেন্ট ভিসা

কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কড়া বার্তা আলবার্টার প্রিমিয়ারের

কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসা মূলত পড়াশোনার জন্য দেওয়া একটি সাময়িক বা অস্থায়ী অনুমোদনপত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সম্প্রতি এই বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেছেন দেশটির আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার দানিয়েল স্মিথ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষা গ্রহণ শেষে আইনি উপায়ে স্থায়ী রেসিডেন্সি না পেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সংগৃহীত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানো উচিত।

কানাডায় পড়তে যাওয়া অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি স্থায়ী রেসিডেন্সি বা পিআর পাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেন। তবে আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার দানিয়েল স্মিথের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে উচ্চকাক্সক্ষী শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। স্মিথ এক্সে পোস্ট করে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, কানাডায় পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সবসময় এটা মনে রাখা উচিত যে তাদের অনুমতিপত্রটি স্রেফ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের অস্থায়ী নথি।

তিনি উল্লেখ করেন, আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রথমত স্থানীয় অধিবাসীদের শিক্ষা চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যদি জায়গা থাকে, তবে তার শর্ত অত্যন্ত সরল ও পরিষ্কার। বিদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এখানে এসে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করবেন এবং মেয়াদ শেষে অর্জিত জ্ঞান ও যোগ্যতা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের জীবন ও সমাজ পুনর্গঠন করবেন।

সম্প্রতি কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) সংক্রান্ত নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে অনেক পোস্ট-সেকেন্ডারি ও ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী শিক্ষা পর্ব শেষ করেও ওয়ার্ক পারমিট বা পিআর পেতে নানা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে দেশটির বেশ কিছু ডিপ্লোমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের চটকদার প্রচারণা দেখে অনেক শিক্ষার্থী ভেবেছিলেন যে ভর্তি হলেই স্থায়ী হওয়ার পথ সুগম হবে।

স্মিথ এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বীকার করেন যে, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারী হয়তো শিক্ষার্থীদের কাছে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করেছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কারও যদি ভিসা বা বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তিনি পিআর না পান, তবে তাঁর নিজ দেশে ফিরে যাওয়াই একমাত্র ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত। কানাডার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ আবশ্যক।

কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাসন খাত, চিকিৎসা সেবা ও অভ্যন্তরীণ নাগরিক পরিষেবায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করেছে। এই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই ভিসা ইস্যুর সংখ্যা সীমিত করা এবং আবেদনকারীদের আর্থিক সচ্ছলতা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই বাড়ানো হচ্ছে।

প্রাদেশিক সরকারগুলো এখন কেবল তাদের চাহিদাপূর্ণ ও জরুরি খাতগুলোতে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরই পিআর দেওয়ার সুযোগ রাখছে। আলবার্টায় যেমন বছরে মাত্র সাড়ে ৬ হাজার মানুষকে প্রাদেশিক নমিনি প্রোগ্রামের (AAIP) মাধ্যমে স্থায়ীকরণ করা সম্ভব, অথচ সেখানে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অপেক্ষায় রয়েছেন। জোগান ও চাহিদার এই বিশাল ফারাক অনিয়মিতভাবে থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কড়া বার্তা আলবার্টার প্রিমিয়ারের

জাপান, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে কোন দক্ষতার

কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কড়া বার্তা আলবার্টার প্রিমিয়ারের

দুবাই ও সৌদিতে গোল্ডেন ভিসা সুবিধা পাচ্ছেন

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *