প্যারিসের হৃদয়ে বিশ্ব নাগরিক তৈরির অনন্য পাঠশালা ‘এইউপি’

আইফেল টাওয়ারের ছায়ায় আর সিন নদীর কলতানে মুখরিত প্যারিসের সপ্তম অ্যারন্ডিসমেন্টে অবস্থিত ‘আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস’ (AUP)। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উচ্চশিক্ষালয়টি বর্তমানে ইউরোপের বুকে মার্কিন উদারপন্থী শিক্ষার (Liberal Arts) এক শক্তিশালী আলোকবর্তিকা। এটি এমন এক মোহনা, যেখানে আমেরিকান একাডেমিক উৎকর্ষ আর ইউরোপীয় সংস্কৃতির আভিজাত্য মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসের বিশেষত্ব হলো এর পরিবেশ। এটি কোনো চার দেয়ালের মাঝে বন্দি প্রথাগত ক্যাম্পাস নয়; বরং পুরো শহরটিই এর শ্রেণিকক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো প্যারিসের ঐতিহাসিক এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ফাঁকেই বিশ্ব ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পান।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এইইউপি কেবল আমেরিকান প্রবাসীদের শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে ১০০টিরও বেশি দেশের মেধাবীদের মিলনস্থল। এখানে একজন শিক্ষার্থী কেবল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা ব্যবসা প্রশাসনই শিখছেন না, বরং তিনি শিখছেন কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হয়। এই ‘ক্রস-কালচারাল’ অভিজ্ঞতাই এইউপি-র গ্র্যাজুয়েটদের গ্লোবাল জব মার্কেটে অন্যদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে মার্কিন ‘লিবারেল আর্টস’ মডেলে। এর অর্থ হলো, একজন শিক্ষার্থী কেবল তার মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে ইতিহাস, শিল্পকলা এবং দর্শনের মতো বিষয়গুলোও সমানভাবে চর্চা করতে পারেন। ছোট ছোট ক্লাস এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিবিড় যোগাযোগ এখানকার শিক্ষার মানকে অনন্য করে তুলেছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাহিত্য বিষয়ে এইইউপি-র খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে এখানে ব্যবহারিক জ্ঞান এবং মাঠপর্যায়ের গবেষণাকে বেশি উৎসাহিত করা হয়। শিক্ষার্থীরা প্যারিসের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাসে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান, যা তাদের পেশাদার জীবনে বিশাল প্রভাব ফেলে।
একনজরে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস (AUP):
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৬২ সাল (ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন আমেরিকান উচ্চশিক্ষালয়)।
শিক্ষার্থী বৈচিত্র্য: ১০০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের পদচারণা।
স্বীকৃতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডল স্টেটস কমিশন অন হায়ার এডুকেশন কর্তৃক স্বীকৃত।
অনুষদ: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, গ্লোবাল কমিউনিকেশন, ব্যবসায় প্রশাসন এবং শিল্পকলা।
বিশেষত্ব: প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শহুরে ক্যাম্পাস এবং অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক।
বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী তরুণদের জন্য, যারা মার্কিন ধাঁচের শিক্ষা খুঁজছেন কিন্তু ইউরোপের সংস্কৃতিকে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এইইউপি একটি আদর্শ গন্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আকাশছোঁয়া টিউশন ফি কিংবা ভিসা জটিলতার বিকল্প হিসেবে প্যারিসের এই আমেরিকান ডিগ্রি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধিকাংশ প্রোগ্রাম এখানে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় ভাষার বাধা নিয়ে খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়টি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা ও স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে বসে বিশ্বমানের ডিগ্রি অর্জন করা একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য ক্যারিয়ারের এক বিশাল মাইলফলক হতে পারে।











