নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #স্টুডেন্ট ভিসা

সেনজেন ভিসা ট্রান্সফার: সেনজেন জোন ট্রাভেল সুবিধা বনাম কাজের অধিকারের পার্থক্য

সেনজেন ভিসা ট্রান্সফার নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাবে ইউরোপে পড়তে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মারাত্মক আইনি জটিলতায় পড়ছেন। হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড বা পর্তুগালের মতো দেশে স্টুডент ভিসা পেয়ে সেখানে না থেকে সরাসরি জার্মানি বা ফ্রান্সে গিয়ে কাজ শুরু করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর ইমিগ্রেশন আইন না মেনে হুট করে অন্য দেশে কাজ শুরু করলে ডিপোর্টেশন ও আজীবন সেনজেন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলভুক্ত ২৯টি দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ভিসা ধারীরা সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। এই সুবিধাটি মূলত ৯০ দিনের জন্য পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদী সফরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে ভ্রমণে যাওয়ার সুবিধা আর সেখানে গিয়ে কাজ করার অধিকার কিন্তু এক জিনিস নয়।

পোল্যান্ড বা মাল্টার স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে জার্মানি বা ফ্রান্সে প্রবেশ করা আইনিভাবে বৈধ হলেও সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রতিটি দেশের শ্রম বাজার ও রেসিডেন্স পারমিট সম্পূর্ণ আলাদা ইমিগ্রেশন কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। তাই ভ্রমণ সুবিধাকে সরাসরি কাজের সুযোগ বলে মনে করাটা সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা।

অনেকে ভাবেন যে কোনো একটি সেনজেন দেশের ভিসা পেয়ে ইউরোপে পা রাখতে পারলেই সব মুশকিল আসান। তারা পৌঁছানোর পরপরই ক্লাসে যোগ না দিয়ে বা পড়াশোনা স্থগিত রেখে ধনী কোনো দেশে গিয়ে অবৈধ কাজে যুক্ত হন। এই ধরনের পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে বা ফি প্রদান না করলে অবিলম্বে স্থানীয় ইমিগ্রেশন বিভাগে রিপোর্ট করে। এতে করে শিক্ষার্থীর টাইপ-ডি ভিসা ও টিআরসি (TRC) বাতিল করে দেওয়া হয়। ভিসা বাতিল হওয়া মাত্রই তিনি সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নে একজন ‘কাগজহীন বা অবৈধ প্রবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত হন।

কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়া অন্য দেশে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে তার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়ানক। দেশটির পুলিশ ও লেবার ইন্সপেক্টরদের অভিযানে ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে ‘ইউরোপিয়ান ইনফরমেশন সিস্টেম’ (SIS) ডাটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

একবার সিস্টেমে ডিপোর্টেশনের সিল পড়লে পরবর্তী ৫ থেকে ১০ বছর পুরো সেনজেন জোনে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমনকি পরবর্তীতে আইনি উপায়ে ভিসার আবেদন করলেও এই ব্ল্যাকলিস্টের কারণে ইউরোপের কোনো দেশ আর ভিসা প্রদান করতে চায় না। এতে করে একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পুরো ক্যারিয়ার চিরতরে ধ্বংসের মুখে পড়ে।

যদি কোনো শিক্ষার্থী এক সেনজেন দেশ থেকে অন্য সেনজেন দেশে স্থানান্তরিত হতে চান, তবে তাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রথমত, তিনি যে দেশে যেতে চান সেখানকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার সুবিধা পেতে পারেন। অফার লেটার পাওয়ার পর নতুন দেশের ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হয়।

দ্বিতীয়ত, যদি কেউ শিক্ষার্থী অবস্থা থেকে সরাসরি চাকুরিজীবী হিসেবে অন্য দেশে যেতে চান, তবে তাকে সেই দেশের কোনো অনুমোদিত নিয়োগকর্তার কাছ থেকে স্পন্সরশিপ বা ওয়ার্ক পারমিট যোগাড় করতে হবে। এরপর নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অথবা বিদ্যমান রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে নতুন দেশের ভিসার জন্য লিখিতভাবে আবেদন জমা দিতে হবে।

সেনজেন ভিসা ট্রান্সফার: সেনজেন জোন ট্রাভেল সুবিধা বনাম কাজের অধিকারের পার্থক্য

কেবল স্কলারশিপ নয় ফুল ফান্ডেড পিএইচডি: ইউরোপ

সেনজেন ভিসা ট্রান্সফার: সেনজেন জোন ট্রাভেল সুবিধা বনাম কাজের অধিকারের পার্থক্য

কম খরচে ইউরোপে ডাক্তারি শিক্ষা: জর্জিয়ায় কম

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *