নামমাত্র খরচে বিশ্বসেরা ডিগ্রি পাওয়ার সেরা গন্তব্য এখন কোন দেশগুলো?

বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষা মানেই কি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স? মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তানদের জন্য এই চিরাচরিত ধারণা এখন অতীত। বিশেষ করে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নামমাত্র খরচে বিশ্বমানের শিক্ষার দুয়ার খুলে দিয়েছে। টিউশন ফি-মুক্ত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বদলে দিতে পারেন তাদের ভবিষ্যৎ।
উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক মানচিত্রে ইউরোপ সবসময়ই শীর্ষস্থানে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি, নরওয়ে এবং অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
এর প্রধান কারণ হলো এসব দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি-র অনুপস্থিতি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে পড়তে গেলে বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা কেবল টিউশন ফি হিসেবে গুনতে হয়, সেখানে ইউরোপের এই দেশগুলো শিক্ষা দিচ্ছে সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
জার্মানি বর্তমানে ইউরোপে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় হাব। দেশটির প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কোনো টিউশন ফি নেই।
শিক্ষার্থীদের কেবল প্রতি সেমিস্টারে ২৫০ থেকে ৩৫০ ইউরোর মতো একটি ‘সেমিস্টার কন্ট্রিবিউশন’ দিতে হয়, যার বিনিময়ে তারা বিনামূল্যে যাতায়াতের পাসসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। আইইএলটিএস (IELTS) এবং ভালো ফলাফল থাকলে একজন শিক্ষার্থী অনায়াসেই এখানে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।
অন্যদিকে নরওয়ে ছিল দীর্ঘদিনের পছন্দের তালিকায়। যদিও সম্প্রতি তারা নন-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু টিউশন ফি আরোপ করেছে, তবুও পিএইচডি পর্যায়ে নরওয়েতে পড়াশোনা এখনো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি ‘ফুল-টাইম জব’ হিসেবে গণ্য হয়।
এছাড়া অস্ট্রিয়া এবং চেক রিপাবলিকে যদি স্থানীয় ভাষায় পড়াশোনা করা যায়, তবে সেখানেও টিউশন ফি মওকুফ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফ্রান্স এবং গ্রিসের মতো দেশগুলোও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী। ফ্রান্সে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ বার্ষিক মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার ইউরো, যা ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় নগন্য।
এসব দেশে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ, যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনায়াসেই মিটিয়ে নিতে পারেন।
ইউরোপে বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী শিক্ষার প্রধান দেশসমূহ:
জার্মানি: প্রায় ৩২০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো টিউশন ফি নেই। ইংরেজি ও জার্মান উভয় ভাষায় পড়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে।
অস্ট্রিয়া: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি অত্যন্ত সীমিত (সেমিস্টার প্রতি প্রায় ৭৫০ ইউরো), জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত উন্নত।
নরওয়ে: উচ্চশিক্ষা শেষে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ এবং পিএইচডি পর্যায়ে আকর্ষণীয় বেতনের সুবিধা।
ফ্রান্স: তুলনামূলক কম টিউশন ফি এবং সরকারিভাবে আবাসন ভাড়ায় বিশেষ ভর্তুকি (CAF) পাওয়ার সুবিধা।
আইসল্যান্ড: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো টিউশন ফি নেই, তবে জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা বেশি হওয়ায় সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন।
তবে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ থাকলেও শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বা ‘লিভিং কস্ট’ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। জার্মানির মতো দেশে ব্লকড অ্যাকাউন্টে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতে হয়, যা মূলত শিক্ষার্থীর নিজের খরচ মেটাতেই ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করার জন্য আইইএলটিএস-এ ভালো স্কোর এবং আগে থেকেই আবেদন প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জানা জরুরি।











