মেধা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য বৈশ্বিক মেলবন্ধন ‘ইএসএসইসি’

ফ্রান্সের সারজি-পোন্তোয়াজ থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র—বিশ্ব মানচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে ‘ইএসএসইসি বিজনেস স্কুল’ (ESSEC Business School)। ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটি বর্তমানে কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির আগামীর গতিপথ নির্ধারণী এক শক্তিশালী ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ইএসএসইসি-র বিশেষত্ব হলো এর ‘পায়োনিয়ারিং স্পিরিট’ বা অগ্রগামী চিন্তা। ফরাসি আভিজাত্য আর আধুনিক বৈশ্বিক চাহিদাকে এক সুতোয় বেঁধে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এমন সব ব্যবসায়িক নেতৃত্ব তৈরি করছে, যারা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোতে নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন করছেন। এখানকার পাঠ্যক্রমের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো ‘লার্নিং বাই ডুইং’—অর্থাৎ কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তব জীবনের জটিল ব্যবসায়িক সংকট সমাধানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলা।
সারজি-পোন্তোয়াজ (ফ্রান্স), সিঙ্গাপুর এবং রাবাতে (মরক্কো) এর আধুনিক ক্যাম্পাসগুলো শিক্ষার্থীদের এক বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রদান করে। এই বহুমুখী ক্যাম্পাস ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কেবল একটি দেশের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ব্যবসা পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা বুঝতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুনঃ স্বপ্নের আড়ালে দীর্ঘশ্বাস: প্রবাস জীবনের অজানা সংগ্রামের গল্প
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইএসএসইসি-র জয়যাত্রা এখন ঈর্ষণীয়। ‘ফাইনান্সিয়াল টাইমস’ এবং ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং’-এ এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের সেরা বিজনেস স্কুলগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ‘মাস্টার্স ইন ম্যানেজমেন্ট’ (MiM) এবং ‘মাস্টার্স ইন ফাইনান্স’ প্রোগ্রামে এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো এর ‘ট্রিপল ক্রাউন’ অ্যাক্রেডিটেশন (AACSB, EQUIS, AMBA), যা বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ বিজনেস স্কুলের ভাগ্যে জোটে। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, শিক্ষার মান এবং গবেষণার ক্ষেত্রে ইএসএসইসি কোনো ধরনের আপস করে না। এখানকার ল্যাবরেটরিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে টেকসই ব্যবসা (Sustainability)—সবকিছু নিয়ে দিনরাত কাজ চলছে।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের যারা গ্লোবাল করপোরেট জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাদের জন্য ইএসএসইসি হতে পারে এক স্বপ্নের গন্তব্য। উত্তর আমেরিকার তুলনায় ফ্রান্সে পড়ার খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি সহনীয়। এছাড়া, ইএসএসইসি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর পরিমাণে স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ক্যাম্পাসের অবস্থান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সুবিধাজনক। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধিকাংশ প্রোগ্রাম এখন ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় ভাষার বাধা এখন আর নেই বললেই চলে। এখানকার ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মাঝেই লুই ভিটন, গুচি কিংবা লরিয়ালের মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোতে কাজ করার এক বিরল সুযোগ করে দেয়।











