যুক্তরাজ্যে ৯৫% উপস্থিতি না থাকলে বাতিল হতে পারে স্পনসরশিপ

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ইউকে কমপ্লায়েন্স ও ৯৫% এনরোলমেন্ট রুল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একদিকে যেমন সুরক্ষার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে তৈরি করেছে কঠোর প্রশাসনিক কড়াকড়ি। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ফলে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতারক এজেন্সির দৌরাত্ম্য বন্ধ হলেও ক্লাসরুমে উপস্থিতির হার নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রবাসীদের চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু এজেন্সি এবং নামসর্বস্ব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা চলছিল। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু শিক্ষার্থী মোটা অঙ্কের টাকা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এই কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের ফলে সেই চক্রটি অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে আসার আগে নিশ্চিত হতে পারছেন যে তারা কোনো প্রতারণার শিকার হচ্ছেন না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এখন সরাসরি সরকারি কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় থাকায় ভুয়া কোর্সে ভর্তি হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা। বিদেশের মাটিতে পড়ার খরচের সাথে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে অনেক শিক্ষার্থীকেই পার্ট-টাইম কাজ করতে হয়।
এই কঠোর নিয়ম চালুর পর থেকে সামান্য অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে ক্লাস মিস করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপস্থিতির হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিপোর্ট জমা দিচ্ছে হোম অফিসে, যা সরাসরি স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলের মতো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বা নতুন আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন সময় ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কঠোর হতে হবে। টিউশন ফি জোগাড় বা জীবনযাত্রার খরচের জন্য কাজ করার পাশাপাশি ক্লাসের সময়সূচি রক্ষা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
কোনো কারণে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতে হলে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত প্রমাণসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগাম জানাতে হবে। নয়তো অসাবধানতাবশত উপস্থিতির হার কমে গিয়ে বছরের পর বছর করা পরিশ্রম ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ মুহূর্তেই ভেস্তে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রশাসন মনে করছে, এ জাতীয় কমপ্লায়েন্স বজায় না রাখলে শিক্ষার সার্বিক মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। জেনুইন বা প্রকৃত শিক্ষার্থীরা যাতে যুক্তরাজ্যে এসে তাদের ক্যারিয়ার সঠিকভাবে গড়তে পারে, সেটাই এই আইনের প্রধান লক্ষ্য।











