নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #বিদেশে চাকরি #শীর্ষ নিউজ

জার্মানিতে অপরচুনিটি কার্ডে আইইএলটিএস ছাড়াই কাজের সুযোগ

ইউরোপের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তি জার্মানিতে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে জার্মানি অপরচুনিটি কার্ড বা চান্সেনকার্ট (Chancenkarte) এখন বাংলাদেশি তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। পয়েন্টভিত্তিক এই বিশেষ ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করে আইইএলটিএস-এর প্রথাগত বাধ্যবাধকতা এড়িয়েও সরাসরি দেশটিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার বৈধ অনুমতি মিলছে। জার্মানির নতুন ইমিগ্রেশন আইনের এই যুগান্তকারী পরিবর্তন বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ জনবলের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।

পয়েন্টভিত্তিক এই ইমিগ্রেশন মডেলটি মূলত কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার এক্সপ্রেস এন্ট্রির আদলে তৈরি করা হয়েছে। আবেদনকারীকে এই কার্ডের জন্য মনোনীত হতে হলে অন্তত ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। প্রার্থীর অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি যদি জার্মানিতে স্বীকৃত হয়, তবে তারা শুরুতেই বড় অঙ্কের পয়েন্ট পান। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছরের নিচে হলে অতিরিক্ত পয়েন্ট যুক্ত হয়।

পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগের যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেও বিশেষ পয়েন্ট দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা কিংবা প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা থাকলে উচ্চ স্কোরের আইইএলটিএস পরীক্ষা ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত পয়েন্টের কোটা পূরণ করা সম্ভব হয়। ফলে প্রথাগত কঠিন পদ্ধতির জটিলতা এড়িয়ে সহজে ভিসা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে জার্মানি যেতে হলে অত্যন্ত কঠিন জার্মান ভাষা শিখতেই হবে। তবে চান্সেনকার্ট বা জার্মানি অপরচুনিটি কার্ড ব্যবস্থায় প্রার্থীরা ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের বিকল্প পথ পাচ্ছেন। আবেদনকারী যদি ইংরেজিতে সি১ (C1) বা বি২ (B2) লেভেলের দক্ষতা দেখাতে পারেন কিংবা জার্মান ভাষায় এ১ (A1) স্তরের মৌলিক জ্ঞান রাখেন, তবেই ভিসা আবেদনের প্রাথমিক শর্ত পূরণ হয়।

উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণদের ক্ষেত্রে যদি অন্যান্য ক্যাটাগরি থেকে ৬ পয়েন্ট উঠে আসে, তবে উচ্চ আইইএলটিএস স্কোরের কোনো বাড়তি দরকার পড়ে না। তবে জার্মানির অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজারে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অন্তত দৈনন্দিন যোগাযোগের মতো মৌলিক জার্মান ভাষা শিখে রাখাটা সবসময় সুবিধাজনক।

চাকরি খোঁজার পুরো এক বছর সময়ের মধ্যে আবেদনকারী যেন আর্থিক সংকটে না পড়েন, সেজন্য ব্লকড অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমানোর নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ১২,০০০ ইউরো সমমানের ফান্ড গ্যারান্টি দেখাতে হয়। এই অর্থের বিপরীতে প্রার্থীরা জার্মানিতে অবস্থানকালে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উত্তোলন করে নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে পারেন।

চাকরি খোঁজার এই দীর্ঘ সময়ে কাউকে বসে থাকতে হয় না। প্রার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত যেকোনো খণ্ডকালীন চাকরি বা ট্রায়াল জব করার আইনি অনুমতি পান। এতে করে নিজের খাবারের ও থাকার খরচ প্রার্থীরা নিজেদের আয় থেকেই সহজে বহন করতে পারেন, যা প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় এক আর্থিক স্বস্তি।

বিশেষ করে আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, নার্স, টেকনিশিয়ান এবং সায়েন্স ও টেকনোলজি খাতের স্নাতকদের জন্য এই ভিসা এক গোল্ডেন অপরচুনিটি। জার্মানির অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন পোর্টাল ‘মেক ইট ইন জার্মানি’ (Make it in Germany)-তে গিয়ে যে কেউ বিনামূল্যে নিজেদের পয়েন্ট হিসাব করে নিতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র এবং ব্লকড অ্যাকাউন্টের রসিদ।

জার্মানিতে অপরচুনিটি কার্ডে আইইএলটিএস ছাড়াই কাজের সুযোগ

দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস লটারি ও স্কিল ভিসার

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *