সেকেন্ড হোম হিসেবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড কেন পছন্দের শীর্ষে?

উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের টানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু বিনিয়োগকারীর কাছে ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। বিশেষ করে অবসর জীবন কাটানো কিংবা বৈশ্বিক নাগরিকত্বের সুবিধা পেতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশ দুটি এখন ধনাঢ্য বাংলাদেশিদের প্রথম পছন্দ।
একসময় উচ্চবিত্তদের কাছে দ্বিতীয় আবাসের অর্থ ছিল কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গত এক দশকে সেই সমীকরণ আমূল বদলে গেছে। ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক মিল এবং উন্নত নাগরিক সুবিধার কারণে মানুষ এখন কুয়ালালামপুর কিংবা ব্যাংককের দিকে ঝুঁকছেন। মালয়েশিয়ার ‘মাই সেকেন্ড হোম’ (MM2H) এবং থাইল্যান্ডের ‘এলিট ভিসা’ বা ‘লং টার্ম রেসিডেন্সি’ প্রোগ্রামগুলো এই জনপ্রিয়তার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ করে ঢাকার যানজট আর দূষণ থেকে মুক্তি পেতে অনেক ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসটি সাজাতে চান শান্ত ও গোছানো কোনো দেশে। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—উভয় দেশই জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত উচ্চমানের নাগরিক সুবিধা প্রদান করে, যা ইউরোপ বা আমেরিকার চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
মালয়েশিয়ার প্রধান আকর্ষণ হলো এর সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য সেখানে খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ হয়। এছাড়া দেশটিতে শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা। কুয়ালালামপুর বা পেনাংয়ের মতো শহরগুলোতে আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রবাসীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে। মালয়েশিয়া সরকারের এমএমটুএইচ কর্মসূচিটি মূলত ১০ বছরের নবায়নযোগ্য ভিসা প্রদান করে, যা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
অন্যদিকে থাইল্যান্ড পরিচিত তার পর্যটন বান্ধব পরিবেশ এবং চমৎকার আতিথেয়তার জন্য। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বিশ্বের শীর্ষ সারির এবং খরচ তুলনামূলক কম। যারা একটু শান্ত ও প্রকৃতিঘেরা পরিবেশে অবসর কাটাতে চান, তাদের জন্য চিয়াং মাই বা ফুকেতের মতো শহরগুলো আদর্শ। থাইল্যান্ডের ‘এলিট কার্ড’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝামেলামুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করে।
সেকেন্ড হোম হিসেবে এই দুই দেশের জনপ্রিয়তার কারণ:
ভৌগোলিক দূরত্ব: ঢাকা থেকে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টার বিমানে যাত্রা, যা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরার সুবিধা দেয়।
বিনিয়োগের নিরাপত্তা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সম্পদের আইনি সুরক্ষা প্রবাসীদের বিনিয়োগকে নিশ্চিত করে।
উন্নত স্বাস্থ্যসেবা: বিশ্বমানের হাসপাতাল এবং সুলভে উন্নত চিকিৎসার সুবিধা প্রবীণদের জন্য বড় আকর্ষণ।
জীবনযাত্রার ব্যয়: সাশ্রয়ী মূল্যে বিলাসবহুল জীবনযাপন, যা ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল।
পরিবার ও শিক্ষা: সন্তানদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ।
তবে এই মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া এসব দেশের পলিসি বা নীতিমালায় পরিবর্তন এলে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়েন। তাই বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান আইন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।











