ইতালি প্রবাসী ও নতুন গমনেচ্ছুদের খবর

- পাদোভায় ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা: মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে ইতালির পাদোভা শহরে ৩ দিনব্যাপী একটি সফল ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে। এই ক্যাম্প থেকে পাদোভা, ভেনিস, ত্রেভিজো এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের ৬ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি সরাসরি পাসপোর্ট নবায়ন, বিভিন্ন এনভিআর (NVR) আবেদন ও নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের সুবিধা পেয়েছেন।
- ইতালি ভিসা নিয়ে দালাল চক্রের অপতৎপরতা: ইতালি সরকারের ৫ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার ‘ডিক্রেটো ফ্লুসি’ (Flussi Decree) ঘোষণার অংশ হিসেবে চলতি বছর ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন কর্মী আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের পরবর্তী কোটার কর্মী নেওয়ার অফিশিয়াল প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হলেও একটি সক্রিয় দালাল চক্র ভুয়া প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যেকোনো প্রকার লেনদেনের পূর্বে ইতালির অফিশিয়াল গ্যাজেট বা বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে।
- মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার: ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভূমধ্যসাগর দিয়ে বিপজ্জনক পথে চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি বড় মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযান চালায়।ইতালি সরকার তাদের তিন বছর মেয়াদী (২০২৬-২০২৮) বড় অভিবাসন পরিকল্পনা ‘Decreto Flussi’ (ডিক্রেটো ফ্লুসি)-এর অধীনে পরবর্তী কোটার কর্মী নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২০২৬ সালের উইন্ডো বা কার্যক্রমগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায়, বর্তমানে ইতালির পরবর্তী ২০২৭ সালের কোটা এবং সিজনাল (মৌসুমি) ভিসার নিয়মকানুন ও পরিবর্তনগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
কোটা ও খাতসমূহ (Quota & Sectors)
* মোট কোটা সংখ্যা: ২০২৭ সালের জন্য ইতালিতে মোট ১,৬৫,৮৫০টি কোটা (ভিসা অনুমোদন) বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর একটি বিশাল অংশ বরাদ্দ থাকবে সিজনাল ভিসার জন্য।
* প্রধান কর্মসংস্থান খাত: সিজনাল বা মৌসুমি ভিসার আওতায় মূলত দুটি প্রধান খাতে কর্মী নেওয়া হবে:
১. কৃষি খাত (Agriculture): ফলমূল ও সবজি চাষ, ফসল তোলা এবং খামারের কাজ।
২. পর্যটন ও হোটেল খাত (Tourism & Hospitality): হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের বিভিন্ন কাজ।নতুন এবং কড়া নিয়মকানুনসমূহ
১. ডিজিটালাইজেশন ও সরাসরি প্রক্রিয়া: দালাল বা অননুমোদিত মিডলম্যানদের দৌরাত্ম্য কমাতে পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি ইতালির ‘Sportello Unico per l’Immigration’ সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করেছে。 আবেদনটি মূলত নিয়োগকর্তা বা ইতালির মালিক নিজেই সরাসরি অফিশিয়াল পোর্টালে ডিজিটাল আইডি (SPID/CIE) দিয়ে সম্পন্ন করবেন।
২. প্রাক-নিবন্ধন (Pre-registration): ২০২৭ সালের মূল আবেদন বা ‘ক্লিক ডে’ (Click Day)-এর পূর্বেই ইতালির মালিকদের জন্য পোর্টালে অগ্রিম তথ্য ও ডকুমেন্টস আপলোড বা প্রাক-নিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়া হবে।
৩. কড়া অডিট ও জরিমানা: যেসকল নিয়োগকর্তা বা মালিক ভুয়া বা জাল কাজের চুক্তি দেখিয়ে কর্মী আনার চেষ্টা করবেন, নতুন নিয়মে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
৪. ভিসার মেয়াদ পরিবর্তন: ইতালির সিজনাল ভিসার সাধারণ মেয়াদ ৩ থেকে ৯ মাস হয়ে থাকে。 তবে পর্যটন ও কৃষি খাতের শ্রমিক সংকট কাটাতে এই মেয়াদ বাড়নোর একটি প্রস্তাবনা ইতালির অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় চলমান রয়েছে।প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও প্রক্রিয়া (Step-by-step Process)
১. মালিকের আবেদন ও নুলা ওস্তা (Nulla Osta): প্রথমে ইতালির একজন বৈধ মালিককে আপনার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিয়ে ইতালির সরকারি পোর্টালে স্পন্সরশিপের আবেদন করতে হবে। আবেদন সফল হলে ইতালি সরকার থেকে ‘Nulla Osta’ বা কাজের ছাড়পত্র ইস্যু করা হবে।
২. ক্যাম্পিনেলো (Labour Market Check): মালিককে প্রমাণ করতে হবে যে এই কাজের জন্য ইতালির স্থানীয় কোনো উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যায়নি।
৩. ভিসা আবেদন ও ফি: নুলা ওস্তা পাওয়ার পর বাংলাদেশে অবস্থিত ইতালির অনুমোদিত কেন্দ্র (VFS Global)-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ও ওয়ার্ক পারমিট জমা দিয়ে লং-স্টে (Type D) ভিসার আবেদন করতে হবে। বর্তমানে টাইপ-ডি ভিসার অফিশিয়াল ফি ১১৬ ইউরো (বা সমপরিমাণ টাকা)। - বিশেষ সতর্কবার্তা: ‘নুলা ওস্তা’ জালিয়াতি
বর্তমানে বাংলাদেশ এবং ইতালিতে একটি বড় প্রতারক চক্র ২০২৭ সালের অগ্রিম কোটার নাম করে ভুয়া ‘Nulla Osta’ বা জাল ছাড়পত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে。 মনে রাখবেন, ইতালির অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে নুলা ওস্তা যাচাই না করে কিংবা ইতালির দূতাবাসের নির্দেশনা ছাড়া কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করবেন না।









