ওমানে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজারের সম্ভাবনা
ওমান ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন শ্রমবাজার-সংক্রান্ত সমঝোতার আওতায় কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রায় ১০,০০০ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার খবরটি প্রবাসী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ওমানের শ্রমবাজারে আরও বেশি কর্মীর প্রবেশাধিকার এবং দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ওমান বাংলাদেশ থেকে মোট ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত নিয়োগের মধ্যে ৫ হাজার কৃষিকর্মী এবং ৫ হাজার মৎস্যকর্মী থাকবেন। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রস্তাবিত কর্মী নিয়োগের হিসাব
কৃষি খাত
৫,০০০
কৃষিকর্মী ও খামারে কাজের জন্য
মৎস্য খাত
৫,০০০
মৎস্য আহরণ ও সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য
মোট প্রস্তাবিত কর্মী
১০,০০০
১. চুক্তি বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওমান সরকারের প্রতিনিধিরা অক্টোবর ২০২৬-এ বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। এই সফরে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মী নিয়োগের বাস্তবায়ন-পদ্ধতি ও অন্যান্য বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলো হলো:
- কতজন কর্মী কোন পর্যায়ে নিয়োগ পাবেন।
- কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা।
- নিয়োগের প্রক্রিয়া, কর্মসংস্থান চুক্তি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন।
- কর্মীদের ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট এবং ওমানে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা।
গুরুত্বপূর্ণ: এসব বিষয়ের চূড়ান্ত নিয়ম, আবেদন শুরুর তারিখ বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
২. কোন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে?
কৃষি খাত
প্রস্তাবিত ৫ হাজার কর্মীর জন্য খামার, বাগান, ফসল উৎপাদন, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট পদ ও কাজের বিবরণ এখনো চূড়ান্ত নয়।
মৎস্য খাত
প্রস্তাবিত ৫ হাজার কর্মীর জন্য মাছ ধরার নৌযান, মৎস্য আহরণ, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ বা সংশ্লিষ্ট কাজে সুযোগ হতে পারে। কোন পেশায় কতজন নেওয়া হবে, তা নিয়োগের বিস্তারিত চূড়ান্ত হলে জানা যাবে।
৩. ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য বৃহত্তর সুযোগের চেষ্টা
১০ হাজার কর্মী নিয়োগের উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের আরও নিয়মিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ওমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের কিছু শ্রেণির ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এখনো শ্রমবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও যে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, তা হলো দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো। কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এমন কর্মী তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যারা ওমানের বিভিন্ন খাতে কাজ করতে পারবেন।
৪. বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এর গুরুত্ব
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্যভাবে—
নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ: কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কাজের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণ: ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিত প্রবেশাধিকার বাড়ানোর প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব: কৃষি, মৎস্য, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, নিরাপত্তা ও কারিগরি কাজে প্রশিক্ষিত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে।
এগুলো সম্ভাব্য সুফল; ১০ হাজার কর্মীর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বা সবার চাকরি নিশ্চিত হয়েছে—এমন দাবি করার মতো তথ্য এখনো নেই।
৫. প্রবাসী কর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা
এখনই কোনো দালাল বা অননুমোদিত এজেন্সিকে টাকা দিয়ে ওমানের ভিসা বা চাকরি বুকিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি, কর্মসংস্থান চুক্তি, বেতন, আবাসন, চিকিৎসা, যাতায়াত খরচ এবং বৈধ রিক্রুটিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়ার পরই পদক্ষেপ নেওয়া নিরাপদ।
সারসংক্ষেপ: ওমান ৫ হাজার কৃষিকর্মী ও ৫ হাজার মৎস্যকর্মীসহ মোট ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বাংলাদেশ জানিয়েছে। অক্টোবর ২০২৬-এ সম্ভাব্য ওমানি প্রতিনিধি দলের সফরে নিয়োগের বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।











