নভেম্বর ৯, ২০২৬
#Uncategorized

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক গতি

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনে দেশে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। ১ জুলাই থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭ দশমিক ৩৫১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

আগস্টেও ছিল শক্তিশালী প্রবাহ

সেপ্টেম্বরের আগে আগস্ট মাসেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা আগের বছরের আগস্টের তুলনায় প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে এসেছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

ফলে জুলাই-আগস্ট—অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স দাঁড়ায় প্রায় ৫ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স?

ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রাখছে—

* বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি
* ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকা
* অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি চ্যানেলের ব্যবহার কমে আসা
* প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ
* ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারাও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে?

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রবাসী আয় বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা বৈদেশিক লেনদেন ও রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থানও উন্নত হয়েছে।

তবে সেপ্টেম্বরের তথ্য এখনো পুরো মাসের নয়। তাই মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স কত দাঁড়াবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা রেমিট্যান্স প্রবাহে ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও নজরে রাখতে হবে।

সার্বিকভাবে, সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহের তথ্য এবং অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসের পরিসংখ্যান বলছে—বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে বর্তমানে একটি ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও সামগ্রিক বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *