নভেম্বর ৯, ২০২৬
#Uncategorized

স্পেনের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ‘ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ’

স্পেনের স্পন্দনশীল রাজধানী মাদ্রিদে অবস্থিত ‘ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ’ (Universidad Europea de Madrid – UEM) বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানচিত্রে এক শক্তিশালী নাম। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথাগত পুঁথিগত বিদ্যাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘এক্সপেরিয়েনশিয়াল লার্নিং’ বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার এক বৈশ্বিক মডেলে পরিণত হয়েছে। কেবল ডিগ্রি নয়, বরং আগামীর কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই এখন এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

মাদ্রিদ শহরের কেন্দ্রে এবং এর উপকণ্ঠে ভিলাভিসিওসা দে ওডন-এ অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো দেখলে মনে হবে কোনো অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্র। এই বিদ্যাপীঠের বিশেষত্ব হলো এর পরিকাঠামো। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ গ্র্যাজুয়েট স্কুল, অত্যাধুনিক সিমুলেশন সেন্টার এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ল্যাবরেটরি।

বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি এখন ইউরোপ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে। রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবের সাথে তাদের সরাসরি অংশীদারিত্ব শিক্ষার্থীদের স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপির মতো বিষয়গুলোতে এমন অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা বিশ্বের খুব কম প্রতিষ্ঠানেই সম্ভব।

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ বিশ্বাস করে যে, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল পাঠ্যবই যথেষ্ট নয়। তাই তারা প্রবর্তন করেছে ‘হাই-ফ্লেক্স’ মডেল, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ভার্চ্যুয়ালিও সমমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তাদের পাঠ্যক্রমের প্রতিটি স্তরেই যুক্ত রয়েছে পেশাদারিত্বের ছোঁয়া। এখানকার শিক্ষকরা কেবল শিক্ষক নন, বরং সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।

বৈচিত্র্যের কথা বলতে গেলে, এখানকার প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আন্তর্জাতিক। প্রায় ১০০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে একসাথে পড়াশোনা করেন, যা এক অনন্য বহুসাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করে। এই আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে সাহায্য করে, যা বর্তমান করপোরেট দুনিয়ায় অমূল্য সম্পদ।

একনজরে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ (UEM):

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৫ সাল।

  • অনুষদ: স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও স্থাপত্য এবং ক্রীড়া বিজ্ঞান।

  • বিশেষ আকর্ষণ: বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ‘রিয়াল মাদ্রিদ’-এর সাথে যৌথভাবে পরিচালিত গ্র্যাজুয়েট স্কুল।

  • আন্তর্জাতিক পরিবেশ: ১০০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীর পদচারণা।

  • স্বীকৃতি: কিউএস (QS) স্টার্স র‍্যাঙ্কিংয়ে কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য সর্বোচ্চ ৫-স্টার রেটিং প্রাপ্ত।

বিগত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গন্তব্য হিসেবে স্পেন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ বাংলাদেশি মেধাবীদের জন্য হতে পারে একটি টার্নিং পয়েন্ট।

বিশেষ করে যারা চিকিৎসাবিজ্ঞান, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ব্যবসায় প্রশাসনে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি চমৎকার সুযোগ প্রদান করে।

এখানকার টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী। পাশাপাশি স্পেনের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। পড়াশোনা শেষে ইন্টার্নশিপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে কাজ করার অবারিত সুযোগ এখানকার গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বাড়তি পাওনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *