নভেম্বর ৯, ২০২৬
#Uncategorized #প্রবাসী বীমা

জেনে নিন প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে বিনিয়োগের আদ্যোপান্ত

বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রতিটি প্রবাসীর মূল দুশ্চিন্তা থাকে কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং এর সঠিক বিনিয়োগ নিয়ে। বর্তমান অস্থির বিশ্ব অর্থনীতিতে সঞ্চিত অর্থ কেবল ব্যাংকে ফেলে না রেখে দেশে সরকারি সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে বিনিয়োগ প্রবাসীদের জন্য এক অনন্য ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শতভাগ সরকারি গ্যারান্টি এবং উচ্চ মুনাফার হার—এই দুইয়ের সমন্বয়ে প্রবাসীদের জন্য এটি এখন বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ গন্তব্য।

সাধারণত প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়ে জমি কেনা বা ফ্ল্যাট নির্মাণকে বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে মনে করেন। কিন্তু সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা এবং আইনি জটিলতার কারণে অনেক সময় প্রবাসীরা প্রতারণার শিকার হন।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন বন্ড ও সঞ্চয়পত্র প্রবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ ‘প্যাসিভ ইনকাম’ বা ঘরে বসে আয়ের উৎস তৈরি করে দিচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য বর্তমানে মূলত তিন ধরণের বিশেষ বন্ড রয়েছে: ওয়েজ আর্নার ডেভলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড।

এর মধ্যে ওয়েজ আর্নার ডেভলপমেন্ট বন্ড সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ এতে দেশি মুদ্রায় বিনিয়োগ করে উচ্চহারে মুনাফা পাওয়া যায় এবং মেয়াদ শেষে মূল টাকা ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকে। অন্যদিকে, যারা ডলারেই বিনিয়োগ ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য ডলার বন্ডগুলো আশীর্বাদস্বরূপ।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হলো প্রধান শর্ত। যেহেতু এই স্কিমগুলো সরাসরি সরকার পরিচালিত, তাই এখানে অর্থ হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) এর চেয়ে তুলনামূলক বেশি।

প্রবাসীরা চাইলে তাদের পরিবারের সদস্যদের নামেও ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’ বা ‘তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ কিনে রাখতে পারেন, যা পরিবারের মাসিক খরচের একটি স্থায়ী যোগান নিশ্চিত করবে।

তবে এই বিনিয়োগের জন্য কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রমাণপত্র, পাসপোর্টের কপি এবং দেশে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রবাসীরা বিদেশের বাংলাদেশি মিশন বা দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে খুব সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।

প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগের বিশেষ সুবিধাসমূহ:

  • ওয়েজ আর্নার ডেভলপমেন্ট বন্ড: ৫ বছর মেয়াদী এই বন্ডে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায় (বিনিয়োগের অংকভেদে হার পরিবর্তিত হতে পারে)। ৮ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মৃত্যুর পর সিআইপি সুবিধা ও মৃত্যু ঝুঁকির বীমা সুবিধাও রয়েছে।

  • ইউএস ডলার বন্ড: ডলার প্রিমিয়াম ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করে প্রবাসীরা ডলারে মুনাফা অর্জন করতে পারেন, যা বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে টাকার মান কমলেও বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখে।

  • কর রেয়াত: প্রবাসীদের জন্য এই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার একটি বড় অংশ অনেক ক্ষেত্রে আয়কর মুক্ত থাকে, যা প্রকৃত আয়ের অংক বাড়িয়ে দেয়।

  • ঋণ সুবিধা: বন্ড বা সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে।

  • উত্তরাধিকার মনোনয়ন: বিনিয়োগকারী প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) খুব সহজেই অর্থ উত্তোলন করতে পারেন।

প্রবাস জীবন চিরস্থায়ী নয়। তাই প্রবাসে থাকাকালীন অর্জিত অর্থের একটি অংশ যদি সরকারি সঞ্চয়পত্র বা বন্ডে বিনিয়োগ করা থাকে, তবে দেশে ফেরার পর একটি আর্থিক মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়।

জমি বা ব্যবসার অনিশ্চয়তা ছেড়ে সরকারি এই সুরক্ষা বলয়ে বিনিয়োগ করাই হবে একজন দূরদর্শী প্রবাসীর বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। সরকারের উচিত এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করতে একটি ওয়ান-স্টপ অনলাইন পোর্টাল চালু করা, যাতে প্রবাসীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে এক ক্লিকেই তাদের সঞ্চয় নিশ্চিত করতে পারেন।

জেনে নিন প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে বিনিয়োগের আদ্যোপান্ত

প্রবাসীদের জন্য অফশোর ব্যাংকিংর দুয়ার খুলে দিলো

জেনে নিন প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে বিনিয়োগের আদ্যোপান্ত

প্রবাসীদের জন্য টাকা পাঠানোর সেরা সময় কোনটি?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *