নিউইয়র্কে গ্রোসারি ও ফার্মেসি খাতে নারী প্রবাসীদের অভাবনীয় সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থল নিউইয়র্কে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন কিংবা জ্যামাইকার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এতদিন পুরুষদের একক আধিপত্য থাকলেও, সেই চেনা সমীকরণ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। মার্কিন সরকারের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও নিজেদের অদম্য সাহসের ওপর ভর করে নারীরা এখন সফলভাবে পরিচালনা করছেন বড় বড় গ্রোসারি চেইন ও কমিউনিটি ফার্মেসি।
নিউইয়র্কের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই রূপান্তরের পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে মার্কিন সরকারের স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসবিএ)। সংস্থাটির বিশেষ ঋণ কর্মসূচি ও সহায়ক কর নীতি কাজে লাগিয়ে নারী ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় পুঁজির জোগান নিশ্চিত করছেন।
আগে যেখানে ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে এখন ব্যাংক ও সরকারি তহবিলের সংযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে সহজ শর্তে মূলধন পাচ্ছেন তারা। ফলে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে রিটেইল মার্কেটে বড় বিনিয়োগ করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে গ্রোসারি পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে। জ্যাকসন হাইটস ও ব্রুকলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সুপারমার্কেটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এখন সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন নারীরা। পাইকারি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ, আধুনিক ইনভেন্টরি নিয়ন্ত্রণ এবং তাক সজ্জায় তারা আধুনিকতার ছাপ রাখছেন।
একই সাথে হালাল ফ্রোজেন ফুড চেইনের ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন এই উদ্যোক্তারা। প্রবাসীদের ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের কথা মাথায় রেখে দেশীয় মাছ, মাংস ও ফ্রোজেন খাদ্যসামগ্রী সহজে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল ক্রেতাদের আস্থা কেড়েছে। পুরুষদের প্রতিষ্ঠিত চেইনগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করেই তারা ধরে রেখেছেন নিয়মিত গ্রাহক।
গ্রোসারির গণ্ডি পেরিয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতেও নারীদের পদচারণা এখন চোখে পড়ার মতো। নিউইয়র্কে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে চিকিৎসা ও ফার্মেসি ব্যাকগ্রাউন্ডের পেশাজীবীরা গড়ে তুলেছেন আধুনিক কমিউনিটি ফার্মেসি। জটিল মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নিজ ভাষার মানুষের কাছে ওষুধের সঠিক ব্যবহার ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।
এই ফার্মেসিগুলো কেবল ওষুধ বিক্রির কেন্দ্র নয়, বরং রক্তচাপ পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরামর্শের নির্ভরযোগ্য স্থানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জ্যামাইকার মতো এলাকায় প্রবীণ প্রবাসীরা ভাষাগত সুবিধার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। ফলে সেবামূলক এই খাতটিতে নারীদের ব্যবসায়িক ভিত্তি দিন দিন আরও সুসংহত হচ্ছে।
প্রবাসী নারীদের গড়ে তোলা এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় অবদান রাখছে। প্রতিটি গ্রোসারি ও ফার্মেসিতে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ক্যাশিয়ার ও ডেলিভারি পদে কাজ করছেন অসংখ্য নবাগত অভিবাসী। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য পার্ট-টাইম কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
পারিবারিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর দিয়ে তারা মূলধারার অর্থনীতিতেও রাখছেন প্রত্যক্ষ ভূমিকা। নারীদের সফলতার এই ধারা জ্যাকসন হাইটস থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র নিউইয়র্কে। ফলে নিউইয়র্কে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এই উত্থান পুরো প্রবাসী সমাজের জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের সূচনা করেছে।











