নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অস্ট্রেলিয়া #আফ্রিকা #ইউরোপ নন সেনজেন #ইউরোপ সেনজেন #উত্তর আমেরিকা #কাতার #তুরস্ক #দক্ষিণ আমেরিকা #দেশভিত্তিক নিউজ #নারী প্রবাসী #নিউজিল্যান্ড #মধ্যপ্রাচ্য #মালয়েশিয়া #শীর্ষ-২ #সংযুক্ত আরব আমিরাত #সিঙ্গাপুর #সৌদি আরব

বাংলাদেশি নারী প্রবাসীদের সংগ্রাম, অবদান ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশি নারী প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, কিন্তু তাদের জীবন প্রায়শই কঠিন সংগ্রামে ভরা। ২০২৫ সালে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার একটি অংশ নারী প্রবাসীদের অবদান। তবে নারী অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (RMMRU)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৬২,৩১৭ জন নারী বিদেশে গেছেন, যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৫.৫ শতাংশ। এটি ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। ২০১৬-২০১৯ সালে প্রতি বছর ১ লাখের বেশি নারী অভিবাসী হতেন, কিন্তু ২০২৩ থেকে এ সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

নারী প্রবাসীদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবে যান গৃহকর্মী হিসেবে। ২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড ৭.৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী গেছেন, কিন্তু নারীদের জন্য চিত্র ভিন্ন। তারা প্রায়শই কাফালা সিস্টেমের অধীনে শোষণের শিকার হন। বেতন না পাওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা, অতিরিক্ত কাজ, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রায়শই উঠে আসে।

অনেকে ফিরে এসে ট্রমার শিকার হন, সমাজে স্টিগমা এবং একাকীত্বের মুখোমুখি হন। নেতিবাচক মিডিয়া কভারেজ এবং নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা নতুন নারীদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করছে। দক্ষতার অভাবও একটি বড় সমস্যা—অধিকাংশ নারী অদক্ষ বা আধা-দক্ষ হিসেবে যান, যা তাদের ঝুঁকি বাড়ায়।

তবু নারী প্রবাসীরা দেশের জন্য অপরিসীম অবদান রাখছেন। তারা পরিবারের আর্থিক স্বাধীনতা এনে দিচ্ছেন, সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের খরচ চালাচ্ছেন। কেউ কেউ ফিরে এসে উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন, ব্যবসা গড়ে তুলছেন।

সরকার নারীদের জন্য ৩০ দিনের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করেছে, বিমা ও প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গন্তব্য দেশগুলোতে সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। জর্ডান, হংকং বা জাপানের মতো দেশে দক্ষ নারী কর্মীর চাহিদা রয়েছে, যা অন্বেষণ করা উচিত।

নারী প্রবাসীরা ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের কষ্ট কমাতে সরকার, সমাজ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। তাদের সাহসী যাত্রা শুধু অর্থনৈতিক নয়, নারী ক্ষমতায়নেরও প্রতীক। ভবিষ্যতে নিরাপদ ও সম্মানজনক অভিবাসন নিশ্চিত করলে নারী প্রবাসীরা আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *