বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের আধিপত্য: কৌশলগত খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে একজোট কানাডা ও ইউরোপ

বিশ্বজুড়ে কৌশলগত খনিজ সম্পদ উত্তোলনে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে কানাডার বিশাল কাঁচামাল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উন্নত প্রযুক্তির ঐতিহাসিক এক মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ও আধুনিক সামরিক শিল্পে বেইজিংয়ের ওপর মারাত্মক নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলাই এই যৌথ মহোদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ মিনারেলস একাই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। মোটরযান, উচ্চপ্রযুক্তির স্মার্টফোন কিংবা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে এসব খনিজের বিকল্প নেই। যেকোনো কূটনৈতিক উত্তেজনায় বেইজিং রপ্তানি বন্ধের নীতি নিলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় পুরো বিশ্ব অর্থনীতি।
চীনের এই কৌশলী চাপ সামলাতেই ব্রাসেলস তাদের ‘ক্রিটিক্যাল র মেটেরিয়ালস অ্যাক্ট’-এর বাস্তবায়ন জোরদার করছে। কানাডায় রয়েছে লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট ও ইউরেনিয়ামের বিশাল প্রাকৃতিক সঞ্চয়। ফলে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কানাডার এসব গচ্ছিত প্রাকৃতিক সম্পদকে ইউরোপীয় শিল্পের টেকসই চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে চায় ইইউ।
কেবল খনি থেকে কাঁচামাল তোলাই যথেষ্ট নয়, সেগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করতে প্রয়োজন উচ্চপর্যায়ের পরিশোধন ব্যবস্থা। বর্তমানে সেই সুবিধার সিংহভাগই চীনের হাতে। এই ঘাটতি পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের আধুনিক পরিশোধন প্রযুক্তি ও গবেষণাগার সুবিধা কানাডায় সরবরাহ করবে।
ইইউর ইকোনমিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং কানাডার খনি খাত যৌথভাবে নতুন কারখানায় কোটি কোটি ডলারের তহবিল যোগানোর রূপরেখা চূড়ান্ত করছে। প্রযুক্তি ও অপরিশোধিত খনিজের এই যৌথ ফ্রন্ট বৈশ্বিক বাণিজ্যে শক্তির নতুন কেন্দ্র তৈরি করবে। বিশ্লেষকদের মতে, অটোয়া ও ব্রাসেলসের এই অর্থনৈতিক জোটের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে কৌশলগত খনিজ সম্পদ বণ্টনের নতুন মানদণ্ড তৈরি হলো।










