নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

শ্রমবাজারে অস্থিরতা: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির চালচিত্র

২০২৬ সাল বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের জন্য একটি বড় পরীক্ষার বছর। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়া, অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ায় নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া—এই দুই বৈপরীত্যের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের জনশক্তি খাত। বিএমইটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও ২০২৬ সালের শুরুতে সেই গতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

প্রধান বাজারগুলোর সংকোচন বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ৭০ শতাংশই নির্ভরশীল ছিল সৌদি আরবের ওপর। কিন্তু বর্তমানে সৌদি আরব ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অদক্ষ শ্রমিক নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। ওমান ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোতেও নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে যারা ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

দক্ষ কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা শ্রমবাজারের বর্তমান প্রবণতা বলছে, এখন আর কেবল ‘লেবার’ বা অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে বিশ্ববাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ২০২৬ সালে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে (যেমন রোমানিয়া ও হাঙ্গেরি) দক্ষ টেকনিশিয়ান, নার্স এবং কেয়ারগিভারদের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়, তবে কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু বর্তমানে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর আধিক্য থাকলেও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও রেমিট্যান্স লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬ সালে বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করা। তবে হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমানো না গেলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। এছাড়া ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি (LDC) থেকে উত্তরণ ঘটাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও কিছু নতুন শর্ত যুক্ত করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার নতুন শ্রমবাজারগুলো অনুসন্ধান করা এখন বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

শ্রমবাজারে অস্থিরতা: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির চালচিত্র

নতুন রেকর্ডের পথে রেমিট্যান্স: ২০২৬ সালে বৈদেশিক

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *