নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর পরিবার

বিচ্ছেদের আড়ালে দীর্ঘশ্বাস: প্রবাসীর পরিবারগুলোর যাপিত জীবন

প্রবাসীরা বিদেশে ঘাম ঝরিয়ে টাকা পাঠান, সেই টাকায় দেশে গড়ে ওঠে অট্টালিকা, স্বচ্ছল হয় পরিবার। কিন্তু এই স্বচ্ছলতার আড়ালে প্রবাসীর পরিবারগুলো যে সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায়, তা অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যায়। ২০২৬ সালের এক সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অভিভাবকহীন থাকার ফলে প্রবাসী পরিবারগুলোতে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

সন্তানের বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা পিতার অনুপস্থিতিতে প্রবাসী পরিবারের সন্তানরা প্রায়ই আদর্শিক সংকটে ভোগে। কেবল টাকার অভাব না থাকায় অনেক কিশোর-কিশোরী বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। মা একাকী সব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ড্রপ-আউট বা স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার সাধারণ এলাকার চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। বাবার সান্নিধ্য না থাকায় সন্তানদের মানসিক বিকাশে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতারণা প্রবাসীর পরিবারগুলো অনেক সময় স্থানীয় ভূমিদস্যু বা আত্মীয়-স্বজনদের লালসার শিকার হয়। প্রবাসীর উপার্জিত টাকায় কেনা জমি বা ফ্ল্যাট দখল করার চেষ্টা চলে প্রতিনিয়ত। স্বামী বিদেশে থাকায় প্রবাসীর স্ত্রীকে নানা সামাজিক কটূক্তি বা হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি ব্যাংকিং লেনদেনে অনভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অনেক পরিবারকে আর্থিক প্রতারণার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য ও একাকীত্ব প্রবাসীদের স্ত্রীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও একাকীত্বের হার আশঙ্কাজনক। ২০২৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক উপাত্তে দেখা গেছে, প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও অনিদ্রার মতো সমস্যা বাড়ছে। প্রিয়জনের সান্নিধ্য ছাড়া বছরের পর বছর কাটিয়ে দেওয়া এই মানুষগুলোর ত্যাগ কোনো অংশেই রেমিট্যান্সের চেয়ে কম নয়। সরকার বর্তমানে প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য ‘হেল্প ডেস্ক’ চালুর কথা বললেও তার সুফল এখনো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বিচ্ছেদের আড়ালে দীর্ঘশ্বাস: প্রবাসীর পরিবারগুলোর যাপিত জীবন

স্বপ্নের পথে রক্ত ও কান্না: প্রবাসে দুর্ঘটনা

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *