স্বপ্নের পথে রক্ত ও কান্না: প্রবাসে দুর্ঘটনা ও প্রতিকারের আর্তি

রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখা যে যোদ্ধারা বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খাটছেন, তাদের জীবন সবসময় নিরাপদ থাকে না। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের মৃত্যুর একটি বড় কারণ হলো কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং সড়ক দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নির্মাণাধীন ভবনের ওপর থেকে পড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা তীব্র দাবদাহে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার নিষ্ঠুরতা সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর খবর এখন প্রতিদিনের সংবাদ। গত সপ্তাহেই রিয়াদে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় ময়মনসিংহের এক তরুণ প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যিনি চার বছর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মূলত ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা এবং ক্লান্ত শরীরে রাস্তা পার হওয়া বা গাড়ি চালানোর ফলে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।
অমানবিক কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ঘাটতি অনেক সময় ব্যয় কমাতে গিয়ে নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার (হেলমেট, হারনেস, বুট) প্রদান করেন না। বহুতল ভবনে কাজ করার সময় সুরক্ষার অভাব অনেক প্রবাসীর অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া মরুভূমির ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের হারও বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ লেখা থাকায় পরিবারগুলো যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায় না।
আইনি সহায়তা ও করণীয় প্রবাসে দুর্ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতা নিরসনে দূতাবাসগুলোর ভূমিকা নিয়ে বরাবরই অসন্তোষ রয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক জীবন বীমা চালু করলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক পরিবার সেই অর্থ পায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে পাঠানোর আগে কর্মীদের আবশ্যিকভাবে নিরাপত্তা সচেতনতা এবং ট্রাফিক আইনের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে নিয়োগকর্তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা জরুরি যাতে তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেন।











