প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আসবে সরকারি খরচে: ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শেষ বিদায়ের কষ্ট লাঘব করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নতুন দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধনকালে তিনি জানান, এখন থেকে প্রবাসীদের মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মন্ত্রণালয়।
শোকাতুর পরিবারের পাশে সরকার
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করলে তাদের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে পরিবারগুলোকে প্রায়শই আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় অর্থের অভাবে বিদেশের মাটিতেই পড়ে থাকে প্রিয়জনের নিথর দেহ। এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে এবার হাত বাড়িয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বহরে নতুন দুটি অত্যাধুনিক ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করেন। এই গাড়িগুলো মূলত বিমানবন্দর থেকে মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে।
সেবার পরিধি বাড়ছে
উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রবাসীরা দেশের সম্পদ। তারা বিদেশে ঘাম ঝরিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কেউ সেখানে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে আনা এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া পরিবারের জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সেই বোঝা ভাগ করে নিতে চাই।”
তিনি আরও জানান, আগে থেকেই এই কাজে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত ছিল। আজ আরও ২টি যুক্ত হওয়ার ফলে মোট ৫টি ফ্রিজিং গাড়ি এখন সেবায় প্রস্তুত। এর ফলে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যেমন দ্রুত হবে, তেমনি পচন রোধে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়া যাবে।
এক নজরে মূল বিষয়:
বিনা খরচে পরিবহন: বিদেশ থেকে মরদেহ দেশে আনা এবং বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছানো—পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা।
বহরে নতুন গাড়ি: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবায় আরও ২টি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে (বর্তমানে মোট ৫টি)।
দ্রুত সেবা: মরদেহ দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে না রেখে দ্রুততম সময়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নিশ্চয়তা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমা সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের ব্যবহার আরও সহজীকরণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা কার্যকর হলে প্রবাসী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের একটি আক্ষেপ ঘুচবে। সাধারণত প্রবাসে কেউ মারা গেলে নিয়োগকর্তা খরচ বহন না করলে পরিবারকে কয়েক লক্ষ টাকা জোগাড় করতে হয়। সরকারি খরচে মরদেহ আনার এই উদ্যোগ মূলত ‘মানবিক কূটনীতি’রই একটি অংশ।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা শুধু মরদেহ পরিবহন নয়, বরং প্রবাসীরা যাতে জীবিত অবস্থায় বিদেশে সব ধরণের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা পান, সেদিকেও নজর দিচ্ছি। তবে যারা বিদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন, তাদের শেষ যাত্রা যেন অন্তত মর্যাদাপূর্ণ এবং বাধাহীন হয়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা মনে করেন, শুধু অ্যাম্বুলেন্স বৃদ্ধি নয়, বরং বিদেশের মিশনগুলোতে মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত থাকে, তবে এটি হবে প্রবাসী বান্ধব সরকারের অন্যতম সেরা অর্জন।











