ক্যাঙ্গারুর দেশে লাল-সবুজ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের ঈর্ষণীয় সাফল্য

উন্নত জীবনযাত্রা, মানসম্মত শিক্ষা এবং চমৎকার আবহাওয়া—এই তিনের সংমিশ্রণে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। সিডনির ল্যাকাম্বা (Lakemba) কিংবা মেলবোর্নের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন পা রাখলে মনে হবে যেন ঢাকার কোনো আধুনিক জনপদ।
পেশাজীবীদের জয়জয়কার অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বিশাল অংশ উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী। সিডনি ও মেলবোর্নের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসক সুনামের সাথে কাজ করছেন। এছাড়া আইটি সেক্টর, প্রকৌশল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় বাংলাদেশিদের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। অস্ট্রেলিয়ার কঠোর ‘স্কিলড মাইগ্রেশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসা এই প্রবাসীরা দেশটির অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের অবদান রাখছেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দুয়ার ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আসলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেনি। বছরে প্রায় ১৪-১৫ হাজার শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে। মেলবোর্ন ও সিডনির বাইরে ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডের মতো আঞ্চলিক শহরগুলোতেও বাংলাদেশিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
সাফল্যের চ্যালেঞ্জ সাফল্য থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার জীবন বেশ ব্যয়বহুল। বিশেষ করে আবাসন সংকট এবং উচ্চ বাসা ভাড়া নতুন প্রবাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশিরা তাদের শক্তিশালী কমিউনিটির মাধ্যমে একে অপরকে সহায়তা করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। সিডনিতে প্রতি বছর আয়োজিত ‘বৈশাখী মেলা’ এখন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের গুরুত্ব তুলে ধরে।











