মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ৬ দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে লেবানন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে বসবাসরত কয়েক লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো পৃথক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং সামরিক স্থাপনা এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া এবং যেকোনো ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দূতাবাসের কঠোর বার্তা
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার রেশ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে এমন ছয়টি দেশে বাংলাদেশিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ঢাকা ও স্থানীয় দূতাবাসগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ। দূতাবাসগুলোর জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রবাসীরা যেন কোনো অবস্থাতেই কৌতূহলবশত সামরিক লক্ষ্যবস্তু, বিমানবন্দর বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের আশপাশে না যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধে প্রথাগত সীমান্তের চেয়ে আকাশপথের হামলা বা মিসাইল ডিভেন্স সিস্টেমের কার্যকারিতা বেশি থাকে, যার ফলে যেকোনো স্থানে দুর্ঘটনাবশত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতেই প্রবাসীদের নিজ নিজ বাসস্থানে বা নিরাপদ বাঙ্কারে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য জরুরি পালনীয় নির্দেশনাবলি:
নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দূতাবাসগুলো নিচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে:
কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা: পাসপোর্ট, আকামা বা কাজের অনুমতিপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি একটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে হাতের কাছে রাখা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় মজুত: অন্তত কয়েক দিনের শুকনো খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে রাখা।
গুজব প্রতিরোধ: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ সংক্রান্ত অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন খবর বিশ্বাস না করা এবং কোনো তথ্য শেয়ার না করা।
সামরিক এলাকা পরিহার: রাডার স্টেশন, সেনাক্যাম্প বা কৌশলগত স্থাপনার অন্তত কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা।
জমায়েত নিষিদ্ধ: কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক সভা-সমাবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।
দীর্ঘ ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ছোট-বড় সংকট আমি প্রত্যক্ষ করেছি। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেকটা নজিরবিহীন। কাতার বা আমিরাতের মতো স্থিতিশীল দেশগুলোতে যখন যুদ্ধের সতর্কতা জারি হয়, তখন বুঝতে হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ অত্যন্ত নাজুক।
এই ছয়টি দেশে বাংলাদেশের কয়েক মিলিয়ন রেমিট্যান্স যোদ্ধা অবস্থান করছেন। যদি পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে লেবানন ও ইরাকের মতো দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিরা এমনিতেই নানা সংকটে আছেন, তার ওপর এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের অস্তিত্বের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) প্রাথমিক পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে, তবে তা পরিস্থিতির চরম অবনতির ওপর নির্ভর করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবানল কত দ্রুত নিভবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।











