নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অস্ট্রেলিয়া #স্টুডেন্ট ভিসা

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারভিত্তিক ভিসায় কড়াকড়ির প্রস্তাব

অস্ট্রেলিয়ায়  শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারভিত্তিক ডিপেন্ডেন্ট ভিসা কমিয়ে আনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত ক্যানবেরার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হওয়া সত্ত্বেও আবাসনসংকট, আকাশছোঁয়া ঘরভাড়া এবং নাগরিক পরিষেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের অজুহাতে অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এ নিয়ে দেশটির সংসদে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র পাল্টাপাল্টি যুক্তি।

অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনের মতো বড় শহরগুলোতে তীব্র বাসস্থান সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ঘরভাড়া সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ার পেছনে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমনকে দায়ী করছে দেশটির একাধিক রাজনৈতিক দল। ফলে সরকারের ওপর অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমানোর জন্য মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন লেবার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বাঁধতে আইনি প্রস্তাব আনলেও তা সংসদে রাজনৈতিক বিরোধিতায় আটকে যায়। তবে প্রশাসনিক নীতিমালার আওতায় সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন গভীরভাবে যাচাইয়ের জন্য ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ পরীক্ষা আরও জোরালো করা হয়েছে। একই সাথে ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যালেন্সের পরিমাণ এবং ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্তও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিসা নীতি আরও কঠোর করার পক্ষে সবচেয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন কট্টর ডানপন্থী ‘ওয়ান নেশন’ দলের প্রধান পলিন হ্যানসন। তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বামী, স্ত্রী কিংবা সন্তানদের মতো পরিবারের সদস্য আসার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

পলিন হ্যানসনের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করতেই আসেন। ফলে কেউ যদি পরিবারের সদস্যদের সাথে রাখতে চান, তবে তাঁর নিজ দেশে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাসে অংশ নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ জোট কেবল শিক্ষার্থীদের পরিবারকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তির সার্বিক সংখ্যা নির্দিষ্ট নিয়মে বেঁধে ফেলার দাবি জানাচ্ছে। তারা স্থানীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষা ও নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে দেশের আবাসন খাতকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল আয়ের একটি বড় অংশ আসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া মোটা অঙ্কের টিউশন ফি থেকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রম ও দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বড় ভর্তুকি দিয়ে থাকে। যদি ভর্তি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বা পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়, তবে বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার বদলে যুক্তরাজ্য, কানাডা বা ইউরোপের অন্যান্য দেশকে বেছে নিতে পারেন।

এমন নীতি কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক সুনাম ও বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল রাজনৈতিক চাপে পড়ে শিক্ষার্থী ও পরিবার আসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে পড়বে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা খাতগুলোও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

অস্ট্রেলিয়া শিক্ষার্থী ভিসা ও ডিপেন্ডেন্ট ভিসা কমানোর আলোচনা ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যেও গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক উচ্চশিক্ষার্থীই পরিবার নিয়ে থাকার সুবিধা এবং পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ দেখে অস্ট্রেলিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

বিশেষ করে গবেষক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিবাহিত শিক্ষার্থীরা, যারা স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিবার নিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই বিকল্প অন্য কোনো দেশের দিকে ঝুঁকবেন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারভিত্তিক ভিসায় কড়াকড়ির প্রস্তাব

জাপান, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে কোন দক্ষতার

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *