নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় পার্ট-টাইম জব: শিক্ষার্থীদের জন্য কোন শহরে কাজের সুযোগ ও আয় সবচেয়ে বেশি

উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় পার্ট-টাইম জব জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হওয়ার পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সন্ধান করেন। তবে সব শহরের কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় এক রকম নয়। সঠিক শহর নির্বাচন করার ওপরই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য অনেকাংশে নির্ভর করে।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় এবং জনবহুল শহর সিডনি। এখানে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, সুপারশপ এবং কর্পোরেট অফিসে পার্ট-টাইম কাজের বিশাল বাজার রয়েছে। তবে সিডনিতে আবাসন সংকট এবং অতিরিক্ত ঘর ভাড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের আয়ের একটি বড় অংশই খরচের খাতায় চলে যায়। তারপরও বেশি মানুষের সমাগম থাকায় নতুনদের জন্য কাজ পাওয়া এখানে সহজ।

সাংস্কৃতিক রাজধানী মেলবোর্নও শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য। মেলবোর্নে ক্যাফে কালচার অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় হসপিটালিটি সেক্টরে প্রচুর কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এই শহরে যাতায়াত ব্যবস্থা চমৎকার এবং সিডনির তুলনায় জীবনযাত্রার খরচ সামান্য কম। সিডনি ও মেলবোর্ন উভয় শহরেই অস্ট্রেলিয়ায় পার্ট-টাইম জব এর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয় কারণ বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এখানেই অবস্থান করেন।

কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেন বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই শহরের আবহাওয়া যেমন চমৎকার, তেমনি এখানে জীবনযাত্রার ব্যয় সিডনি বা মেলবোর্নের চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। ব্রিসবেনে পর্যটন ও রিটেইল খাতে শিক্ষার্থীরা প্রচুর পার্ট-টাইম কাজ পেয়ে থাকেন। ২০৩২ সালের অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে এই শহরে নির্মাণ ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়ছে।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরটিও শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার সুযোগ তৈরি করছে। পার্থে খনি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট-টাইম কাজের মজুরি অনেক সময় মূল ভূখণ্ডের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া পার্থে আঞ্চলিক বা রিজিওনাল এরিয়ার সুবিধা পাওয়া যায়, যা পড়াশোনা শেষে স্থায়ী বসবাসের (PR) পথ সহজ করে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডকে বলা হয় শিক্ষার শহর। শান্ত ও পরিচ্ছন্ন এই শহরে পড়াশোনার পরিবেশ যেমন দারুণ, তেমনি থাকার খরচও অনেক কম। অ্যাডিলেডে বড় বড় শপিং মল এবং সেবা খাতে শিক্ষার্থীরা পার্ট-টাইম কাজ খুঁজে নেন। বড় শহরগুলোর মতো এখানে কাজের ছড়াছড়ি না থাকলেও কম খরচের কারণে শিক্ষার্থীরা সহজেই টিকে থাকতে পারেন।

কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্ট মূলত একটি পর্যটন শহর। সারা বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ পর্যটক এখানে আসার কারণে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে খণ্ডকালীন কর্মীর বিশাল চাহিদা থাকে। তবে অফ-সিজনে বা পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকলে এখানে কাজের সুযোগ কিছুটা কমে যায়। তাই যারা হসপিটালিটি সেক্টরে অভিজ্ঞ, তাদের জন্য গোল্ড কোস্ট একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় এসে দ্রুত কাজ পেতে হলে শিক্ষার্থীদের কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। সিভির (Resume) মান উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় নেটওয়ার্ক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ‘সিক’ (Seek) বা ‘ইন্ডিড’ (Indeed) এর মতো জনপ্রিয় জব পোর্টালগুলোতে নিয়মিত চোখ রাখতে হবে। এছাড়া ফেসবুকের বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ এবং লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও অনেক কাজের সন্ধান মেলে।

কাজে যোগ দেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN) এবং ফেয়ার ওয়ার্ক ওমবাডসম্যানের নিয়মকানুন জেনে নেওয়া উচিত। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম লিগ্যাল ওয়েজ বা মজুরি নিশ্চিত করা সরকারের আইনি বাধ্যবাধকতা। কোনো নিয়োগকর্তা ক্যাশ ইন হ্যান্ডে কম টাকা দিতে চাইলে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আইনসম্মত উপায়ে কাজ করলে আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি পেশাদার অভিজ্ঞতার ঝুলিও ভারী হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় পার্ট-টাইম জব: শিক্ষার্থীদের জন্য কোন শহরে কাজের সুযোগ ও আয় সবচেয়ে বেশি

স্পাউস ভিসার জন্য অতিরিক্ত কত টাকা ব্যাংক

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *