স্পাউস ভিসার জন্য অতিরিক্ত কত টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স দেখাতে হয়?

বিদেশে জীবনসঙ্গীকে সাথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্পাউস ভিসা ব্যাংক ব্যালেন্স সংক্রান্ত নিয়মকানুন জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ তাদের অভিবাসন নীতি কঠোর করায় এখন ভিসার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক সময় মূল আয়ের শর্ত পূরণ না হলে ব্যাংক জমার মাধ্যমে সেই ঘাটতি মেটাতে হয়, যার হিসাব এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
যুক্তরাজ্য সরকার স্পাউস ভিসার জন্য ন্যূনতম আয়ের সীমা বাড়িয়ে বার্ষিক ২৯,০০০ পাউন্ড নির্ধারণ করেছে। যদি কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা তার বিদেশী সঙ্গীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে চান, তবে তাকে এই পরিমাণ বার্ষিক আয় দেখাতে হবে। তবে সবার তো আর এই পরিমাণ নির্দিষ্ট বেতন থাকে না, তখনই সামনে আসে জমানো টাকার বিকল্প ব্যবস্থা।
আগের নিয়মে যেখানে কেবল ৬২,৫০০ পাউন্ড ব্যাংক ব্যালেন্স দেখালেই চলত, বর্তমান নিয়মে তা এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। এখন যদি স্পন্সরের কোনো চাকরি বা অন্য কোনো वैध উৎস থেকে আয় না থাকে, তবে পুরো শর্তটি শুধু ক্যাশ সেভিংস দিয়ে পূরণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ৮৮,৫০০ পাউন্ড দেখাতে হয়, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি।
যদি আপনার স্পন্সরের বার্ষিক আয় ২৯,০০০ পাউন্ডের কম হয়, তবে সেই ঘাটতি স্পাউস ভিসা ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। তবে ইমিগ্রেশন বিভাগের এই হিসাবটি বেশ জটিল এবং এখানে একটি নির্দিষ্ট সূত্র কাজ করে। নিয়ম অনুযায়ী, বেসিক ১৬,০০০ পাউন্ডের সাথে আয়ের ঘাটতিকে ২.৫ দিয়ে গুণ করে যোগ করতে হবে।
ধরা যাক, যুক্তরাজ্যে থাকা স্পন্সরের বার্ষিক আয় ২০,০০০ পাউন্ড, অর্থাৎ তার মূল আয়ের ঘাটতি রয়েছে ৯,০০০ পাউন্ড। এখন এই ৯,০০০ পাউন্ডকে ২.৫ দিয়ে গুণ করলে হয় ২২,৫০০ পাউন্ড। এর সাথে বেসিক ১৬,০০০ পাউন্ড যোগ করলে মোট ৩৮,৫০০ পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যাংক ব্যালেন্স হিসেবে দেখাতে হবে। এই হিসাব না বোঝার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের ভিসা আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
can শুধু টাকা অ্যাকাউন্টে রাখলেই হবে না, হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থ অত্যন্ত স্বচ্ছ উপায়ে দেখাতে হবে। আবেদন করার ঠিক আগের দিন থেকে গণনা করে পেছনের টানা ৬ মাস এই টাকা অ্যাকাউন্টে অক্ষত থাকতে হবে। এই ৬ মাসের মধ্যে একদিনের জন্যও যদি ব্যালেন্স প্রয়োজনীয়表的 নিচে নেমে যায়, তবে আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাবে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা অবশ্যই নগদ বা ক্যাশ সেভিংস হতে হবে, কোনো শেয়ার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বন্ডের মূল্যায়ন এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে জমি বা বাড়ি বিক্রির টাকা যদি ব্যাংকে বৈধ নথিসহ জমা করা হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ৬ মাস রাখার বাধ্যবাধকতায় ছাড় পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া টাকাটি স্পন্সর, আবেদনকারী কিংবা উভয়ের যৌথ অ্যাকাউন্টে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।
যুক্তরাজ্যের বাইরে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা আমেরিকার ক্ষেত্রেও স্পাউস ভিসার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফান্ড দেখাতে হয়। কানাডায় স্পাউস বা ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য সাধারণত মূল আবেদনকারীর ফান্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ ক্যাড দেখাতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখার প্রমাণ দিতে হয়।
ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে স্পাউস বা ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসার জন্য স্পন্সরের একটি নির্দিষ্ট আবাসন এবং মাসিক আয়ের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেখানে সাধারণত ব্যাংক ব্যালেন্সের চেয়ে প্রতি মাসে আয়ের ধারাবাহিকতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাই যে দেশেই আবেদন করা হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান বছরের সুনির্দিষ্ট আর্থিক নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত।
মা-বাবা বা নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স হিসেবে দেখানো সম্ভব। তবে শর্ত হলো, এটি কোনো ঋণ হওয়া যাবে না এবং যিনি টাকাটি দিচ্ছেন তাকে একটি লিখিত ঘোষণা দিতে হবে যে এই টাকার ওপর তার কোনো অধিকার নেই। একই সাথে টাকাটি আবেদনের আগে অন্তত ৬ মাস অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে।
আবেদন করার ঠিক আগ মুহূর্তে হঠাৎ করে বড় কোনো অংকের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা দিলে ভিসা অফিসাররা এটিকে সন্দেহজনক মনে করতে পারেন। যদি এই টাকার কোনো বৈধ উৎস বা সোর্স অফ ফান্ড (যেমন জমি বিক্রি বা উত্তরাধিকার সূত্র) দেখাতে না পারেন, তবে ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
যদি যুক্তরাজ্যে থাকা স্পন্সরের বার্ষিক নিয়মিত আয় ২৯,০০০ পাউন্ড বা তার বেশি হয়, তবে আলাদা করে কোনো অতিরিক্ত ব্যাংক ব্যালেন্স বা ক্যাশ সেভিংস দেখানোর প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র গত ৬ মাসের পে-স্লিপ এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিলেই আর্থিক শর্ত পূরণ হয়ে যাবে।











