নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ

আমেরিকা ও কানাডায় জিআরই ওয়েভার পেয়ে টিএ-আরএ ফান্ডিং অর্জনের কৌশল

জিআরই ওয়েভার সুবিধা গ্রহণ করে উত্তর আমেরিকার নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা ছাড়াই টিএ (TA) ও আরএ (RA) ফান্ডিং পাওয়া এখন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে আগে গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন (GRE) একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা ও কানাডার বহু বিভাগ এই বাধ্যবাধকতা শিথিল করায় শুধুমাত্র অ্যাকাডেমিক সিজিপিএ ও গবেষণা প্রস্তাবনার জোরে মিলছে শতভাগ স্কলারশিপ।

আমেরিকা ও কানাডার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে যেকোনো স্টেম (STEM) বা হিউম্যানিটিস বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট কোর্সে আবেদনের জন্য ভালো জিআরই স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর পর থেকে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বুঝতে পেরেছে যে একটি একক পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীর গবেষণা সামর্থ্য পুরোপুরি বিচার করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত দুই উপায়ে শিক্ষার্থীদের জিআরই ছাড় দিয়ে থাকে— ‘জিআরই অপশনাল’ এবং ‘জিআরই ওয়েভার’। অপশনাল নিয়মে শিক্ষার্থী চাইলে স্কোর পাঠাতে পারেন, না পাঠালেও আবেদন বিবেচিত হয়। আর ওয়েভার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী বিশেষ কোনো যোগ্যতা (যেমন উচ্চ সিজিপিএ বা কাজের অভিজ্ঞতা) দেখালে সরাসরি জিআরই ছাড়ের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (TA) কিংবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (RA) পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকদের সাথে পূর্ব যোগাযোগ। জিআরই না থাকলেও আপনার যদি শক্তিশালী সিজিপিএ এবং অন্তত একটি বা দুটি আন্তর্জাতিক জার্নাল পেপার থাকে, তবে প্রফেসর আপনাকে তাঁর গবেষণাগারে কাজ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন।

প্রফেসরকে ইমেইল করার সময় আপনার গবেষণা আগ্রহের সাথে তাঁর কাজের মিল স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। প্রফেসর যখন কোনো শিক্ষার্থীকে পছন্দ করেন, তখন ডিপার্টমেন্টের ভর্তি কমিটি জিআরই ছাড়াই তাকে ফান্ডিং প্রদান করে। এর ফলে জিআরই ওয়েভার সুবিধা পেয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রথম সেমিস্টার থেকেই সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ এবং মাসিক উপবৃত্তি পেয়ে থাকেন।

যেহেতু এখানে জিআরই স্কোর বাদ পড়ছে, তাই আপনার আবেদনের অন্যান্য অংশগুলোকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করতে হবে। স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) এবং রেকমেন্ডেশন লেটার (LOR) এক্ষেত্রে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। আপনি কেন এই গবেষণার জন্য উপযুক্ত এবং অতীতে কীভাবে জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন, তা এসওপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এছাড়া আইইএলটিএস (IELTS) বা টফেল (TOEFL) পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকা আবশ্যক, কারণ টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ক্লাস নেওয়ার জন্য ইংরেজিতে ভালো দখল থাকতে হয়। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জিআরই ওয়েভার সক্রিয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ভালোভাবে চেক করে আগেই গ্র্যাজুয়েট কো-অর্ডিনেটরের সাথে ইমেইলে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ইলিনয়, ওহাইও এবং কানাডার অ্যালবার্টা বা ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট কিছু ডিপার্টমেন্টে জিআরই তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো জনপ্রিয় বিষয়গুলোতেও অনেক ডিপার্টমেন্ট এখন জিআরই ছাড়া টিএ/আরএ অফার করছে।

উত্তর আমেরিকায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই নতুন সুযোগ বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। জিআরই প্রিপারেশনে বছরের পর বছর সময় নষ্ট না করে সরাসরি প্রোফাইল বিল্ডিং ও প্রফেসর যোগাযোগের দিকে নজর দিলে কম খরচে ও কম সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফান্ডিং অর্জন সম্ভব।

আমেরিকা ও কানাডায় জিআরই ওয়েভার পেয়ে টিএ-আরএ ফান্ডিং অর্জনের কৌশল

প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা আরও দ্রুত ও সহজ

আমেরিকা ও কানাডায় জিআরই ওয়েভার পেয়ে টিএ-আরএ ফান্ডিং অর্জনের কৌশল

লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্রি স্কলারশিপ নিয়ে যেসব দেশে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *