ইউরোপে গ্রিন ট্রানজিশন স্কিলড ভিসা; দক্ষ কর্মীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ

ইউরোপের শ্রমবাজারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চালু হওয়া গ্রিন ট্রানজিশন স্কিলড ভিসা প্রবাসী দক্ষ কর্মী ও প্রকৌশলীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিস্তার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো পরিবেশবান্ধব খাতে দক্ষ জনবল বাড়াতে বিশেষ এই ভিসা নীতি গ্রহণ করছে। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রিক যানবাহন ও পরিবেশ বিজ্ঞানে কাজ করা দক্ষ প্রবাসীরা এখন দ্রুততম সময়ে ভিসা পাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে এখন জোর গতিতে চলছে সবুজ শিল্প বিপ্লব। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্ভর শিল্প ছেড়ে ইউরোপীয় দেশগুলো ঝুঁকছে বায়ু শক্তি, সৌরবিদ্যুৎ এবং ইলেকট্রিক গাড়ির মতো আধুনিক প্রযুক্তির দিকে।
এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিশাল পরিমাণের অভিজ্ঞ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ। ইউরোপের স্থানীয় বাজারে এই ধরণের দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মেটাতে গ্রিন ট্রানজিশন স্কিলড ভিসা চালু করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ সহ ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক এশীয় দেশগুলোর অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও পরিবেশবিদদের জন্য প্রক্রিয়াকরণ সময় অনেক কমে আসবে।
সুযোগের বিপরীত পিঠেই থাকে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরোপ যখন নিজেদের শিল্প কাঠামো পুনর্গঠন করছে, তখন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন খাতগুলোতে।
পেট্রোকেমিক্যাল, কার্বন-ঘন ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পুরনো জ্বালানি চালিত কারখানায় যেসব অভিবাসী কর্মীরা নিয়োজিত আছেন, তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের কারণে অনেক পুরনো কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিংবা তাদের উৎপাদন কমিয়ে আনছে।
ফলে এসব খাতে থাকা অদক্ষ বা মাঝারি মানের সাধারণ অভিবাসী কর্মীরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাঁদের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও সবুজ কাজের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপের শ্রমবাজারের এই স্পষ্ট বিভাজন বার্তা দিচ্ছে যে, আগামী দিনে কেবল শারীরিক পরিশ্রম নির্ভর কাজের সুযোগ কমে আসবে। ইউরোপে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে কিংবা নতুন করে অভিবাসনের স্বপ্ন পূরণ করতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই।
যেসব প্রবাসী প্রথাগত খাতে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে যারা ভবিষ্যতে ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের প্রথাগত কাজের পরিবর্তে সোলার প্যানেল ইনস্টলেশন, ইলেকট্রিক যানবাহন টেকনিশিয়ান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জনে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে দ্রুত নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়াই একমাত্র সমাধান। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে প্রবাসীদের জন্য এই সংকটই আবার বড় সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে।











