নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অস্ট্রেলিয়া #ইউরোপ #শীর্ষ-১

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ও ব্যাংক সলভেন্সির নতুন ধাক্কা

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের ঘোষিত নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সীমা বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী হাজার হাজার বাংলাদেশি তরুণের ভবিষ্যৎ ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সার্বিক বিষয়টি সামাল দিতে উভয় দেশই স্টুডেন্ট ভিসা মঞ্জুরের ওপর কঠোর কোটা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একই সাথে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা এবং ব্যাংক সলভেন্সি বা ফান্ড প্রুফের নতুন শর্তাবলি যুক্ত হওয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ এখন কিছুটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

কানাডা সরকার তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অভ্যন্তরীণ আবাসন ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন কোটা পদ্ধতি চালু করেছে। চলতি বছর থেকে পরবর্তী কয়েক বছর ভিসা ইস্যুর নির্দিষ্ট বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পূর্বের তুলনায় নতুন ভিসা অনুমোদনের হার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে।

একই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকারও। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রবেশসংক্রান্ত বিধিমালার সংস্কার এনে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ভর্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট করেছে। বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সীমা কড়াকড়ি করার মাধ্যমে উভয় দেশই নিশ্চিত করতে চাইছে যেন কেবল সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরাই তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পান।

অতীতে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া গেলে সাথে থাকা স্বামী বা স্ত্রী ফুল-টাইম কাজের আইনি অনুমতি পেতেন। তবে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সাধারণ স্নাতক বা ডিপ্লোমা পর্যায়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী আর এই অবাধ কাজের সুযোগ পাবেন না।

বর্তমানে কেবল মাস্টার্স, ডক্টরেট কিংবা নির্দিষ্ট কিছু প্রফেশনাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। সাধারণ ডিপ্লোমা ও গ্রাজুয়েট কোর্সে আসা প্রার্থীদের পরিবার নিয়ে আসার পথ প্রায় পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই পদক্ষেপ মূলত প্রবাসে পরিবারসহ স্থায়ী হওয়া কমানোর একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উচ্চশিক্ষায় আসার পর অনেক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সংকটে পড়ে পার্ট-টাইম কাজের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর (IRCC) প্রার্থীর জীবনযাত্রার প্রাথমিক খরচের আর্থিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও ফান্ড প্রুফ বা ব্যাংক ব্যালেন্স দেখানোর ন্যূনতম অঙ্কে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে টিউশন ফি ছাড়াও পুরো এক বা দুই বছরের থাকা-খাওয়ার খরচ হিসেবে মোটা অঙ্কের বৈধ ব্যাংকিং হিসেব দেখাতে হচ্ছে। ভুয়া ফিন্যান্সিয়াল ডকুমেন্টেশন রোধে ভিসা দপ্তরগুলো এখন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

নতুন নীতির কারণে ঢালাওভাবে আবেদন করার সুযোগ বন্ধ হলেও যোগ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগের দুয়ার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আবেদনকারীদের এখন থেকেই নির্দিষ্ট ভাষা দক্ষতার স্কোর (IELTS/PTE) বাড়াতে নজর দেওয়া উচিত।

যেকোনো এজেন্সির প্রলোভনে না পড়ে অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়া শ্রেয়। সময়মতো প্রাদেশিক অনুমোদনপত্র বা প্রভিন্সিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার (PAL) সংগ্রহ নিশ্চিত করা ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *