পর্তুগাল নাগরিকত্ব আইন সংশোধন: প্রবাসীদের পাসপোর্টের অপেক্ষা বাড়ছে

ইউরোপের জনপ্রিয় অভিবাসন গন্তব্য পর্তুগালে বসবাসরত সাধারণ প্রবাসীদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে পর্তুগাল নাগরিকত্ব আইন সংশোধন এর নতুন খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। দীর্ঘদিনের বহুল আলোচিত এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ অভিবাসীদের পাসপোর্ট ও স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য অপেক্ষার মেয়াদ আগের ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারী ও গোল্ডেন ভিসা ধারীদের জন্য বেশ কিছু নমনীয় আইনি শর্ত ও সুবিধা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
পর্তুগাল বরাবরই অভিবাসীবান্ধব দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সরকার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্যের অজুহাতে অভিবাসন আইনে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লিগ্যাল রেসিডেন্সির সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি সহ দক্ষিণ এশিয়ান প্রবাসীদের স্বপ্নে বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে।
অনেকেই পাঁচ বছরের নিয়ম হিসাব করে পাসপোর্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ এমন নীতিগত পরিবর্তনের ফলে তাদের ইউরোপিয়ান স্বপ্ন আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির অভ্যন্তরীণ আবাসন সংকট এবং ইউরোপীয় কমিশনের চাপ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
সাধারণ প্রবাসীদের জন্য নিয়ম কঠিন করা হলেও সরকারের পর্তুগাল নাগরিকত্ব আইন সংশোধন খসড়ায় ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় অব্যাহত রাখা হয়েছে। গোল্ডেন ভিসা স্কিমের আওতায় পর্তুগালে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফান্ড বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ করা ব্যক্তিরা আগের নমনীয় শর্তেই রেসিডেন্সি ধরে রাখার আইনি সুবিধা পাচ্ছেন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বছরে সামান্য কিছুদিন পর্তুগালে অবস্থানের বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা নিজ নিজ দেশের ব্যবসা বজায় রেখেই ইউরোপীয় স্থায়ী রেসিডেন্সির পথে এগিয়ে যেতে পারছেন। সরকারের এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও অর্থনৈতিক স্বার্থেই পর্তুগিজ সরকার এই ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষ নিয়েছে।
আইন সংশোধনের পর সবচেয়ে বড় আলোচনা চলছে রেসিডেন্সির সময়সীমা গণনার সূচনা পয়েন্ট নিয়ে। আগে যেখানে প্রাথমিক ভিসার আবেদনের দিন থেকে পাসপোর্ট গণনার সময় শুরু হতো, এখন তা কেবল চূড়ান্ত বায়োমেট্রিক ও কার্ড পাওয়ার পর থেকে হিসাব করার পরিকল্পনা চলছে।
পর্তুগিজ ইমিগ্রেশন এজেন্সি সংস্থাগুলোতে প্রশাসনিক ব্যাকলগ থাকায় এমনিতে কার্ড পেতে দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যায়। এর ওপর যদি জমার তারিখ বাদ দিয়ে নতুন হিসাব শুরু হয়, তবে প্রকৃতপক্ষে একজন সাধারণ প্রবাসীকে নাগরিকত্ব পেতে প্রায় এক দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে।











