ফ্যামিলি স্পনসরশিপের শর্ত কঠোর করছে সুইডেন

উত্তর ইউরোপ ও সুইডেন অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে ফ্যামিলি স্পনসরশিপ ইনকাম থ্রেশহোল্ড ও বসবাসের শর্ত কঠোর করা হচ্ছে। নতুন এই নিয়মাবালীর আওতায় কোনো প্রবাসী তাঁর পরিবারকে কাছে আনার আগে নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকছে। প্রবাসীদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক মনে হলেও, নবাগত কর্মীদের পরিবার নিয়ে একসাথে বসবাস করার স্বপ্ন অনেকটাই বিলম্বিত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সুইডেনসহ উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ইমিগ্রেশন আইন কানায় কানায় সংস্কার করা হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ও প্রবাসীদের মূলধারার অর্থনীতিতে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে।
আইনের এই পরিবর্তনের ফলে এখন আর ইচ্ছে করলেই কেবল কাজের সুযোগ পেয়েই পরিবারকে নিয়ে আসা সম্ভব হবে না। স্পনসরকে প্রমাণ করতে হবে যে তার অর্জিত আয় দিয়ে বাসা ভাড়া ও জীবনযাত্রার সমস্ত খরচ সামলে পরিবার চালানো পুরোপুরি সম্ভব।
একদিক থেকে চিন্তা করলে, এই পদক্ষেপ প্রবাসীদের পরিবারকে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আর্থিক সংকটে পড়া থেকে রক্ষা করবে। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা বা ইনকাম থ্রেশহোল্ড পার করে পরিবার আনলে তারা অনায়াসে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জীবনযাত্রার খরচের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন।
অন্যান্য দেশের তুলনায় জীবনযাত্রার মান এখানে অনেক উন্নত হলেও আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম সাধারণ আয়ের কর্মীদের জন্য এমনিতেই বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত না করে পরিবার আনলে যে ঋণের বোঝা তৈরি হয়, তা থেকে বাঁচতেই এই আইনি বাধা।
আইনের কঠোরতার সবচেয়ে কালো দিকটি হলো ২ বছর টানা বসবাসের শর্ত এবং আয়ের উচ্চ সীমা নির্ধারণ। বিশেষ করে নতুন আসা আন্তর্জাতিক কর্মী ও জুনিয়র পেশাজীবীদের জন্য এই শর্ত পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার মানসিক চাপ কর্মক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নীতি নির্ধারকরা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অজুহাত দেখালেও, মানসিকভাবে প্রবাসীদের জীবন যে আরও জটিল হয়ে উঠলো তা স্পষ্ট। তবুও নিয়ম মেনেই নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগ দিতে হচ্ছে অভিবাসীদের।











