নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ

স্পেনে অভিবাসন নীতি সংস্কার: ২ বছরেই মিলবে বৈধতার সুযোগ

স্পেনে অভিবাসন সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনথিভুক্ত বিদেশিদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করেছে পেদ্রো সানচেজের সরকার। নতুন সংশোধিত ‘আরাইগো’ (Arraigo) নীতিমালার অধীনে এখন থেকে টানা দুই বছর দেশটিতে বসবাস এবং স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের চুক্তি দেখাতে পারলেই রেসিডেন্সিয়া বা আইনি বসবাসের অনুমতি পাওয়া যাবে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্পেনের অভিবাসন আইন কিছুটা নমনীয় হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে অনথিভুক্ত প্রবাসীদের জন্য বৈধ কাগজপত্রের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। আগে রেসিডেন্সিয়া পাওয়ার জন্য একজন অভিবাসীকে সাধারণত তিন বছর বা তারও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে বসবাস করতে হতো। সেই সঙ্গে কাজের চুক্তির শর্তগুলোও ছিল অনেক বেশি কঠিন। পরিবর্তিত নিয়মে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর এক ধাক্কায় কমিয়ে আনা হয়েছে। মূলত স্প্যানিশ শ্রমবাজারে চলমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলা করা এবং ছায়া অর্থনীতিতে কাজ করা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে মূলধারায় যুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান প্রশাসন অভিবাসনকে একটি ইতিবাচক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। ইউরোপের অনেক দেশ যখন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন স্পেনের এই নীতিগত পরিবর্তন একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সংশোধিত আইনে বৈধতার আবেদন করার জন্য অভিবাসীদের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীকে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের কাছে অকাট্য প্রমাণ দাখিল করতে হবে যে তিনি স্পেনে অন্তত ২৪ মাস বা দুই বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাস করছেন। সাধারণত সিটি কর্পোরেশন বা টাউন হলে নিবন্ধন যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পাদ্রোন’ (Padrón) বলা হয়, তার মাধ্যমেই এই উপস্থিতির প্রাথমিক প্রমাণ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কোনো মালিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ন্যূনতম কাজের চুক্তিপত্র বা জব কন্ট্রাক্ট থাকতে হবে। পূর্বে অনেকেই স্পেনে প্রবেশের পর বৈধতার কোনো সুনির্দিষ্ট পথ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফ্রান্স, ইতালি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমাতেন। বর্তমান নীতিমালার কারণে সেই অনিশ্চিত অভিবাসন প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। অন্য কোনো দেশে গিয়ে নতুন করে শুরু করার আইনি ও শারীরিক ঝুঁকি না নিয়ে প্রবাসীরা এখন সরাসরি স্পেনের মাটিতেই নিজেদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবেন।

স্প্যানিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে রাজধানী মাদ্রিদ এবং পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের এই দেশটিতে প্রবেশের পর বৈধ কাগজপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি কর্মী রেস্তোরাঁ, কৃষিকাজ, ফলমূলের দোকান বা নির্মাণ খাতে নামমাত্র মজুরিতে অমানবিক পরিশ্রম করতে বাধ্য হন। নিয়মিত হওয়ার আইনি সুযোগ না থাকায় তারা প্রায়ই নিয়োগকর্তাদের দ্বারা নানা ধরনের শোষণের শিকার হচ্ছিলেন। বৈধতার অভাবে এসব কর্মীর দেশে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে বছরের পর বছর ধরে তারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এখন মাত্র দুই বছরের উপস্থিতির প্রমাণ এবং একটি কাজের চুক্তির মাধ্যমে তারা স্পেনের আইনি কাঠামোর আওতায় আসতে পারবেন।

বৈধতা পাওয়ার পর বাংলাদেশি কর্মীরা স্পেনের মূল শ্রমবাজারে ন্যায্য বেতনে কাজ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, সন্তানদের উন্নত শিক্ষা এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলোও সম্পূর্ণ আইনি পথে উপভোগ করতে পারবেন। দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তা, পুলিশের ভয় ও মানসিক চাপ কাটিয়ে তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণও বাড়াতে সক্ষম হবেন। আবেদন প্রক্রিয়াটি যদি প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত থাকে, তবে প্রবাসীদের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্পেনে অভিবাসন নীতি সংস্কার: ২ বছরেই মিলবে বৈধতার সুযোগ

ওমানে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বাড়ল, আউটপাসে দেশে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *