মালদ্বীপে অনথিভুক্ত প্রবাসী বৈধকরণ শুরু, বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মালদ্বীপে বসবাসরত অবৈধ ও অনথিভুক্ত বিদেশি কর্মীদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন দ্বীপে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’ (Operation Kurangi)-এর আওতায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি বাধ্যতামূলক করার মধ্য দিয়ে মালদ্বীপে বৈধকরণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক উপযুক্ত কাগজপত্রের অভাবে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। অভিবাসন খাতকে শৃঙ্খলায় ফেরানোর লক্ষ্যে মালদ্বীপ সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ডেটাবেস তৈরির দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নিয়মে বৈধ বা অবৈধ—সব ধরনের বিদেশি কর্মীর হালনাগাদ তথ্য সরকারি সার্ভারে যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা অতীতে দালালদের খপ্পরে পড়ে কিংবা নিয়োগকর্তার গাফিলতির কারণে ভিসা হারিয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, রাজধানী মালের বাইরে অন্যান্য প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোতে ছড়িয়ে থাকা অভিবাসীদেরও ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত মালদ্বীপ সরকারের এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন কুরাঙ্গি। এই কর্মসূচির প্রধান কাজ হলো বিদেশি শ্রমিকদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ এবং নির্ভুল বায়োমেট্রিক ডেটা সংরক্ষণ। পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগের সমন্বিত দল সরাসরি বিভিন্ন কর্মস্থলে গিয়ে বা নির্ধারিত সরকারি কেন্দ্রে এই তথ্য সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে কর্মীর বর্তমান অবস্থান, কাজের ধরন এবং প্রকৃত স্পন্সরের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কাউকে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া নয়, বরং শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যারা তথ্য প্রদানে এবং নিবন্ধন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসনের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে।
মালদ্বীপের পর্যটন ও নির্মাণ খাত বহুলাংশে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল এবং সেখানে কর্মরত অনথিভুক্ত কর্মীদের একটি বিশাল অংশ বাংলাদেশি নাগরিক। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করার জোর নির্দেশ দিয়েছে মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। বৈধভাবে বসবাস বা নতুন কাজের সুযোগ পেতে হলে প্রবাসীর পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক।
অনেক বাংলাদেশি কর্মীরই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিংবা সেটি নিয়োগকর্তার কাছে আটকে আছে, যা তাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, পাসপোর্ট হালনাগাদ থাকলে মালদ্বীপ সরকারের চলমান কর্মসূচিতে নাম তালিকাভুক্ত করা অত্যন্ত সহজ হবে। সঠিক সময়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়োগকর্তার সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যাদের কাছে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র নেই, তাদের অবিলম্বে দূতাবাসের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে আইনি জটিলতা এড়িয়ে মালদ্বীপে নিরাপদ প্রবাস জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।











