ইইউ সহযোগী সদস্যপদ: কানাডাকে কেন এই অভাবনীয় প্রস্তাব দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন?

বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়ে কানাডাকে প্রথম ইইউ সহযোগী সদস্য করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের পটভূমিতে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে জোটবদ্ধ হতে অটোয়াকে এই আহ্বান জানায় ব্রাসেলস।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপনের সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশ্ব রাজনীতিতে নিয়মভিত্তিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে এক ছাতার নিচে আসতে হবে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী কেবল ইউরোপের দেশগুলোই ইইউর পূর্ণ সদস্য হতে পারে। ফলে অ-ইউরোপীয় দেশ কানাডার জন্য এই ইইউ সহযোগী সদস্য কাঠামোর নতুন পদ উদ্ভাবন করা হয়েছে।
২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া সিইটিএ বাণিজ্য চুক্তির গণ্ডি পেরিয়ে এবার বহুমাত্রিক অংশীদারত্বের দিকে যাচ্ছে অটোয়া ও ব্রাসেলস। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দুপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক উৎপাদন ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় একসাথে কাজ করবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও ব্যাটারি উৎপাদনে কানাডার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে চায় ২৭ দেশের এই জোট।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন—উভয়পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক আরোপের পদক্ষেপের কারণে অটোয়া ও ব্রাসেলস নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে। কানাডা তার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে করে থাকে, যা অর্থনৈতিক ঝুঁকির বড় কারণ।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বিশ্বরাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এক হওয়া জরুরি। ইউরোপের এই বিশাল প্রস্তাব কানাডার অর্থনীতিকে ওয়াশিংটন-নির্ভরতা থেকে বের হয়ে নতুন বৈচিত্র্য এনে দেবে। বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কানাডা যদি এই ইইউ সহযোগী সদস্য প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে ট্রান্স-আটলান্টিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভরকেন্দ্রে বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে।











