নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শীর্ষ-১

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক চাপেই কী ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে কানাডা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ক্রমাগত অর্থনৈতিক চাপের মুখে ওয়াশিংটনের পুরোনো মিত্র কানাডা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাসে অটোয়া ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর ফলে নিজস্ব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষা ও ওয়াশিংটন-নির্ভরতা কমাতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার ব্রাসেলসের সাথে এক ঐতিহাসিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন।
দশকের পর দশক ধরে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশীর বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক নির্ভরতার অন্যতম সেরা উদাহরণ। তবে হোয়াইট হাউসে ফিরেই ট্রাম্প প্রশাসন কানাডিয়ান পণ্য, বিশেষ করে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কৃষিপণ্যে নতুন করে ব্যাপক শুল্ক চাপায়। এতে অটোয়ার ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখোমুখি হন এবং দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যে নজিরবিহীন স্থবিরতা নেমে আসে।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের জবাবে অটোয়াও পাল্টা শুল্ক বসাতে বাধ্য হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অর্থনীতির সামনে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমাতে কেবল পাল্টা জবাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বাজারকে নতুন পথ দেখাতে ইউরোপ সফর ত্বরান্বিত করেন।
কানাডার মোট বৈশ্বিক রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। এই একক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই এখন দেশটির অর্থনীতিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে। এই অচলাবস্থা কাটানো ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটোয়া কৌশলগতভাবে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে উদ্যোগী হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন কানাডাকে প্রথম ‘ইইউ সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাব দিলে ঘটনা নতুন মোড় নেয়। ব্রাসেলসের ভাষ্যমতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, আর্কটিক অঞ্চল ও কৌশলগত খনিজ সম্পদে দুই পক্ষ হাত মেলালে ট্রাম্পের শুল্কনীতি মোকাবিলা করা বহুলাংশে সহজ হয়ে উঠবে।
এদিকে ব্রাসেলসের এই ঘোষণায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইইউ-কানাডা জোট গঠনকে একটি ‘শত্রুতাপূর্ণ কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও ভয়াবহ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ইউরোপকে সাথে নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করাই এখন কানাডার প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক চাপেই কী ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে কানাডা?

ব্রেক্সিট বনাম কানাডা: কেন আটলান্টিক পেরিয়ে ইইউর

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক চাপেই কী ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে কানাডা?

জি-৭ জোটে নতুন মেরুকরণ: শক্তিশালী হচ্ছে ব্রাসেলস-অটোয়া

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *